যশোর জেলা(Jashore)
খেজুরের গুড় আর ফুলের জেলা; কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান।
ভৌগোলিক সীমানা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
নামকরণের ইতিহাস
নাম নিয়ে কয়েকটি মত আছে। একটি হলো আরবি 'জসর' (সেতু) থেকে, কারণ এখানে অনেক নদী পারাপারের সাঁকো ছিল। আরেকটি মত হলো, এই অঞ্চল গৌড়ের যশ হরণ করেছিল বলে 'যশহর', যা থেকে যশোর।
চারদিকের ভৌগোলিক সীমানা
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
সেক্টর ৮ (প্রথম মুক্ত জেলা)১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে যশোর জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেক্টর ৮ (প্রথম মুক্ত জেলা)-এর অধীনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর ও গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
যশোর জেলা কেন বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বিশেষত্ব
বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জেলা ও ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে প্রথম শত্রুমুক্ত জেলা
বেনাপোল আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর (দেশের বৃহত্তম স্থল কাস্টমস ও ট্রানজিট বন্দর)
গদখালী ফুলের রাজধানী (দেশের মোট বাণিজ্যিক ফুলের সিংহভাগ উৎপাদন কেন্দ্র)
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিধন্য সাগরদাঁড়ি ও কপোতাক্ষ নদ
শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাব (অবস্থান ও ক্যাম্পাস)
- যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (JUST)ক্যাম্পাস: যশোর সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- যশোর মেডিকেল কলেজ (JMC)অবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, যশোর
- সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এমএম) কলেজ (১৯৪১)অবস্থান: কলেজ রোড, যশোর
- যশোর সরকারি সিটি কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, যশোর
- যশোর সরকারি মহিলা কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, যশোর
- যশোর জিলা স্কুল (১৮৩৮)অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, যশোর
- যশোর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, যশোর
জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ডিরেক্টরি
পূর্ণ ঠিকানা: কালেক্টরেট ভবন ও জেলা প্রশাসন চত্বর, যশোর সদর
ই-সেবাকেন্দ্র ও ফ্রন্টডেস্ক সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত
পূর্ণ ঠিকানা: পুলিশ লাইনস ও এসপি কার্যালয় রোড, যশোর
পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও জরুরি ডিউটি অফিসার ২৪ ঘণ্টা সচল
পূর্ণ ঠিকানা: সদর হাসপাতাল রোড, যশোর সদর
জরুরি বিভাগ (Emergency) ও অ্যাম্বুলেন্স ২৪/৭ সেবা
পূর্ণ ঠিকানা: জজ কোর্ট চত্বর, আদালত রোড, যশোর সদর
সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) ও ফৌজদারি-দেওয়ানি আদালত ভবন।
পূর্ণ ঠিকানা: আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবন, যশোর সদর
ই-পাসপোর্ট আবেদন, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও পাসপোর্ট বিতরণ।
পূর্ণ ঠিকানা: ফায়ার স্টেশন রোড, যশোর সদর
অগ্নিনির্বাপণ, নদী ও সড়ক দুর্ঘটনা উদ্ধারকারী স্পেশাল টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত।
পূর্ণ ঠিকানা: জেলা পরিষদ ভবন, যশোর সদর
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিচালনা।
আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি সার্কিট হাউস গাইড
ঠিকানা: সার্কিট হাউস রোড, কালেক্টরেট চত্বর সংলগ্ন, যশোর সদর।
ভাড়া: ৳৪০০ - ৳৮০০ (অনুমোদন সাপেক্ষে)
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে বুকিং নিতে হয়।
ঠিকানা: কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, স্টেশন রোড ও শহরের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
ভাড়া: ৳১,২০০ - ৳৩,০০০ / রাত
এসি/নন-এসি রুম, ২৪/৭ জেনারেটর ব্যাকআপ, ওয়াইফাই ও লিফট সুবিধা।
ঠিকানা: নদী তীরবর্তী এলাকা, বনভূমি সংলগ্ন বা প্রধান পর্যটন স্পট রোড।
ভাড়া: ৳২,০০০ - ৳৫,৫০০ / রাত
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (BPC) মোটেল ও প্রাইভেট ইকো-রিসোর্ট।
ঠিকানা: পুরাতন বাজার মোড়, জেলা পরিষদ চত্বর ও লঞ্চঘাট/স্টেশন সংলগ্ন।
ভাড়া: ৳৫০০ - ৳১,০০০ / রাত
একক পর্যটক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।
ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত খাবার ও জিআই পণ্য
যশোরের বিখ্যাত খেজুরের নলেন গুড় ও পাটালি, জামতলার সুস্বাদু মিষ্টি
প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ (4টি) ও পৌঁছানোর রুট
সাগরদাঁড়ি (মধুসূদনের বাড়ি)
মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মভিটা, কপোতাক্ষ নদ আর জাদুঘর।
যাওয়ার উপায়: কেশবপুর উপজেলায়; যশোর থেকে প্রায় ৬০ কিমি।
সেরা সময়: জানুয়ারি (২৫ জানুয়ারি জন্মদিনে মধুমেলা); অক্টোবর–মার্চ
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি
গদখালী ফুলের গ্রাম
মাঠের পর মাঠ গোলাপ, গাঁদা, রজনীগন্ধা; দেশের ফুলের রাজধানী।
যাওয়ার উপায়: ঝিকরগাছায়, যশোর-বেনাপোল সড়কে; বাস/অটোতে।
সেরা সময়: ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি (বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসের আগে সবচেয়ে রঙিন)
প্রবেশ ফি / খরচ: প্রবেশ বিনামূল্যে; কিছু বাগানে ছবি তোলার জন্য সামান্য ফি
বেনাপোল স্থলবন্দর
ভারতের সাথে সবচেয়ে ব্যস্ত সীমান্ত পথ।
যাওয়ার উপায়: যশোর থেকে প্রায় ৩৮ কিমি।
সেরা সময়: সারা বছর
প্রবেশ ফি / খরচ: বিনামূল্যে; সীমান্ত পারাপারে ভ্রমণ কর ও পাসপোর্ট-ভিসা লাগে
চাঁচড়া রাজবাড়ি ও শিবমন্দির
আঠারো শতকের জোড়বাংলা রীতির শিবমন্দির।
যাওয়ার উপায়: যশোর শহরের চাঁচড়ায়।
সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ
প্রবেশ ফি / খরচ: বিনামূল্যে
ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যশোর যাওয়ার রুট গাইড
ঢাকা (গাবতলী, মহাখালী বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল) থেকে যশোর সদরের উদ্দেশ্যে দিন-রাত নিয়মিত নন-এসি ও এসি বাস চলাচল করে।
কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি বা নিকটস্থ রেলওয়ে জংশনে আরামদায়ক যাত্রা করা যায়।
জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি, হাইস বা রেন্ট-এ-কারে পরিবারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুত সরাসরি পৌঁছানো যায়।
আন্তঃজেলা দূরত্ব ও ভ্রমণ খরচ ক্যালকুলেটর
বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে কত খরচ ও কত সময় লাগবে এক ক্লিকে জানুন
ঢাকা থেকে যশোর সড়কপথের আনুমানিক দূরত্ব।
যানজট ও যাত্রাবিরতি সহ বাসে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়কাল।
নন-এসি: ৳398 | এসি: ৳675 (জনপ্রতি)।
বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তঃনগর শোভন চেয়ারের সম্ভাব্য ভাড়া।
যশোর জেলায় কোথায় থাকবেন ও সম্ভাব্য খরচ
খরচ: জনপ্রতি দিনে ১,৫০০–৩,০০০৳হোটেল সিটি প্লাজা ইন্টারন্যাশনাল • হোটেল জাবির ইন্টারন্যাশনাল • শহরে মাঝারি মানের হোটেল
বিসিএস ও এডমিশন সাধারণ জ্ঞান (GK) প্রশ্নোত্তর
যশোর জেলা বাংলাদেশের কোন বিভাগে অবস্থিত?
যশোর বাংলাদেশের খুলনা বিভাগের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক জেলা।
যশোর জেলার ভৌগোলিক সীমানায় উত্তরে কোন অঞ্চল রয়েছে?
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী যশোর জেলার উত্তরে ঝিনাইদহ ও মাগুরা জেলা অবস্থিত।
যশোর জেলার প্রধান নদ-নদী কোনগুলো?
এসব নদী যশোর জেলার কৃষি, পলি ও মৎস্য সম্পদের মূল ভিত্তি।
যশোর জেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই অঞ্চল সেক্টর ৮ (প্রথম মুক্ত জেলা)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
যশোর জেলার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিশেষত্ব কী?
দেশজুড়ে খাদ্যরসিক ও পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষভাবে সুপরিচিত।
খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলাসমূহ
৬৪ জেলার সম্পূর্ণ ইন্টারঅ্যাক্টিভ মানচিত্র এক্সপ্লোর করুন
আপনার ভ্রমণ করা জেলাগুলো সিলেক্ট করে নিজের রঙিন ট্রাভেল ম্যাপ ডাউনলোড করুন এবং বাকি জেলাগুলোর তথ্য দেখুন।