ঢাকা বিভাগস্থানাঙ্ক: 23.0050857° N, 89.8266059° Eঢাকা থেকে দূরত্ব: 150 কিমি

গোপালগঞ্জ জেলা(Gopalganj)

মধুমতী নদীর তীরের জেলা; টুঙ্গিপাড়া আর মতুয়া সম্প্রদায়ের তীর্থস্থান ওড়াকান্দির জন্য পরিচিত।

মোট আয়তন1490 বর্গ কিমি
জনসংখ্যা১২,৯৫,০১৬
সাক্ষরতার হার৭৬.৩%
উপজেলা সংখ্যা5টি
যাতায়াত সময়৩–৩.৫ ঘণ্টা
প্রধান নদ-নদীমধুমতি, কুমার

ভৌগোলিক সীমানা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

নামকরণের ইতিহাস

প্রচলিত মতে, রানী রাসমণির এক নাতির নাম ছিল নব গোপাল। তাঁর নামের 'গোপাল' আর বাজার বোঝাতে 'গঞ্জ' মিলে নাম হয় গোপালগঞ্জ।

চারদিকের ভৌগোলিক সীমানা

উত্তর দিকফরিদপুর জেলা
দক্ষিণ দিকপিরোজপুর ও বাগেরহাট জেলা
পূর্ব দিকমাদারীপুর ও বরিশাল জেলা
পশ্চিম দিকনড়াইল ও মাগুরা জেলা

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম

সেক্টর ৮ ও ৯

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে গোপালগঞ্জ জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেক্টর ৮ ও ৯-এর অধীনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর ও গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকবি সুকান্ত ভট্টাচার্যশেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবশামসুল হক ফরিদপুরী

গোপালগঞ্জ জেলা কেন বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বিশেষত্ব

ঐতিহ্য ও জাতীয় অবদান
1

স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মভূমি টুঙ্গিপাড়া ও সমাধি সৌধ

2

মধুপুর-মধুমতি নদী তীরবর্তী নয়নাভিরাম বিল ও জলজ প্রকৃতি

3

ঐতিহাসিক উলপুর জমিদার বাড়ি ও কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের পৈতৃক ভিটা

4

মধুমতি নদীর তাজা মাছ ও গোপালগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ক্ষীরসা মিষ্টি

শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাব (অবস্থান ও ক্যাম্পাস)

বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, কলেজ ও স্কুল
বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ
  • বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (BSMRSTU)ক্যাম্পাস: গোপালগঞ্জ সদর ও সংলগ্ন এলাকা
মেডিকেল ও নার্সিং
  • শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ (SSKMC)অবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, গোপালগঞ্জ
ঐতিহ্যবাহী সেরা কলেজ
  • সরকারি বঙ্গবন্ধু কলেজ (১৯৫০)অবস্থান: কলেজ রোড, গোপালগঞ্জ
  • সরকারি শেখ রেহানা মহিলা কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, গোপালগঞ্জ
শতবর্ষী ও সেরা স্কুল
  • এস এম মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১২)অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, গোপালগঞ্জ
  • বিনা পানি সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, গোপালগঞ্জ

জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ডিরেক্টরি

অফিস সময়: রবিবার - বৃহস্পতিবার, সকাল ৯:০০ - বিকাল ৫:০০
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, গোপালগঞ্জ
প্রশাসন

পূর্ণ ঠিকানা: কালেক্টরেট ভবন ও জেলা প্রশাসন চত্বর, গোপালগঞ্জ সদর

ই-সেবাকেন্দ্র ও ফ্রন্টডেস্ক সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত

পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ২৪/৭ কন্ট্রোল রুম, গোপালগঞ্জ
২৪/৭ নিরাপত্তা

পূর্ণ ঠিকানা: পুলিশ লাইনস ও এসপি কার্যালয় রোড, গোপালগঞ্জ

পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও জরুরি ডিউটি অফিসার ২৪ ঘণ্টা সচল

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, গোপালগঞ্জ
জরুরি স্বাস্থ্য

পূর্ণ ঠিকানা: সদর হাসপাতাল রোড, গোপালগঞ্জ সদর

জরুরি বিভাগ (Emergency) ও অ্যাম্বুলেন্স ২৪/৭ সেবা

জেলা ও দায়রা জজ আদালত
বিচার বিভাগ

পূর্ণ ঠিকানা: জজ কোর্ট চত্বর, আদালত রোড, গোপালগঞ্জ সদর

সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) ও ফৌজদারি-দেওয়ানি আদালত ভবন।

আইনি সহায়তা হটলাইন:১৬৪৩০ (টোল ফ্রি)
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, গোপালগঞ্জ
নাগরিক সেবা

পূর্ণ ঠিকানা: আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবন, গোপালগঞ্জ সদর

ই-পাসপোর্ট আবেদন, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও পাসপোর্ট বিতরণ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন
জরুরি উদ্ধার

পূর্ণ ঠিকানা: ফায়ার স্টেশন রোড, গোপালগঞ্জ সদর

অগ্নিনির্বাপণ, নদী ও সড়ক দুর্ঘটনা উদ্ধারকারী স্পেশাল টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত।

জরুরি হটলাইন:১০৬৫৫ / ৯৯৯
জেলা পরিষদ কার্যালয়
স্থানীয় সরকার

পূর্ণ ঠিকানা: জেলা পরিষদ ভবন, গোপালগঞ্জ সদর

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিচালনা।

সেবা সময়:রবি-বৃহস্পতি সকাল ৯টা - বিকাল ৫টা

আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি সার্কিট হাউস গাইড

গোপালগঞ্জ জেলায় কোথায় থাকবেন, সঠিক লোকেশন ও সম্ভাব্য ভাড়া
জেলা সার্কিট হাউসসরকারি ভিআইপি

ঠিকানা: সার্কিট হাউস রোড, কালেক্টরেট চত্বর সংলগ্ন, গোপালগঞ্জ সদর।

ভাড়া: ৳৪০০ - ৳৮০০ (অনুমোদন সাপেক্ষে)

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে বুকিং নিতে হয়।

৩-স্টার ও সিটি হোটেলস্ট্যান্ডার্ড

ঠিকানা: কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, স্টেশন রোড ও শহরের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

ভাড়া: ৳১,২০০ - ৳৩,০০০ / রাত

এসি/নন-এসি রুম, ২৪/৭ জেনারেটর ব্যাকআপ, ওয়াইফাই ও লিফট সুবিধা।

পর্যটন মোটেল ও রিসোর্টইকো ও পর্যটন

ঠিকানা: নদী তীরবর্তী এলাকা, বনভূমি সংলগ্ন বা প্রধান পর্যটন স্পট রোড।

ভাড়া: ৳২,০০০ - ৳৫,৫০০ / রাত

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (BPC) মোটেল ও প্রাইভেট ইকো-রিসোর্ট।

বাজেট হোটেল ও ডাকবাংলোবাজেট ফ্রেন্ডলি

ঠিকানা: পুরাতন বাজার মোড়, জেলা পরিষদ চত্বর ও লঞ্চঘাট/স্টেশন সংলগ্ন।

ভাড়া: ৳৫০০ - ৳১,০০০ / রাত

একক পর্যটক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।

টিপস: যেকোনো হোটেলে চেক-ইন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্মনিবন্ধন কার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন করতে হয়। ছুটির দিনে ভ্রমণের পূর্বে অগ্রিম যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করা ভালো।

ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত খাবার ও জিআই পণ্য

ঐতিহ্যবাহী খাবার:

মধুমতি নদীর তাজা চিতল মাছের কোপ্তা, ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লা ও নারিকেলের সন্দেশ

সরকার ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জিআই (GI) পণ্যসমূহ:
🌟 গোপালগঞ্জের রসগোল্লা

প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ (2টি) ও পৌঁছানোর রুট

সঠিক লোকেশন, যাতায়াত রুট ও খরচ

টুঙ্গিপাড়া সমাধিসৌধ

বাইগার নদীর তীরে শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিসৌধ কমপ্লেক্স, লাইব্রেরি ও জাদুঘর।

যাওয়ার উপায়: গোপালগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ১৯ কিমি; বাস/সিএনজিতে যাওয়া যায়।

সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ

প্রবেশ ফি / খরচ: প্রবেশ বিনামূল্যে

ওড়াকান্দি ঠাকুরবাড়ি

মতুয়া ধর্মের প্রবর্তক হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মস্থান; বারুণী মেলায় লাখো মানুষ আসে।

যাওয়ার উপায়: কাশিয়ানী উপজেলায়; গোপালগঞ্জ থেকে সিএনজিতে।

সেরা সময়: মার্চ–এপ্রিল (বারুণী মেলা); অন্য সময় শান্ত

প্রবেশ ফি / খরচ: প্রবেশ বিনামূল্যে

ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে গোপালগঞ্জ যাওয়ার রুট গাইড

দূরত্ব: 150 কিমি • আনুমানিক সময়: ৩–৩.৫ ঘণ্টা
বাস সার্ভিস (সরাসরি)

ঢাকা (গাবতলী, মহাখালী বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল) থেকে গোপালগঞ্জ সদরের উদ্দেশ্যে দিন-রাত নিয়মিত নন-এসি ও এসি বাস চলাচল করে।

ভাড়া: ৳৩৫০ - ৳১,২০০ (কোচ ও এসি সাপেক্ষে)
রেল যোগাযোগ ও এক্সপ্রেস ট্রেন

কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি বা নিকটস্থ রেলওয়ে জংশনে আরামদায়ক যাত্রা করা যায়।

শোভন চেয়ার: ৳১৮০ - ৳৬৫০ (দূরত্ব অনুযায়ী)
নিজস্ব গাড়ি ও মহাসড়ক রুট

জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি, হাইস বা রেন্ট-এ-কারে পরিবারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুত সরাসরি পৌঁছানো যায়।

সিএনজি/পেট্রল খরচ: দূরত্ব অনুযায়ী ৩,০০০৳ - ৮,০০০৳
স্থানীয় যাতায়াত টিপস: যাত্রাবাড়ী/গাবতলী থেকে পদ্মা সেতু হয়ে গোপালগঞ্জ/টুঙ্গিপাড়ার বাস (টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস, সেবা গ্রীন লাইন), ভাড়া ৪০০–৬০০৳।
স্মার্ট ভ্রমণ নির্দেশিকা ও এস্টিমেটর

আন্তঃজেলা দূরত্ব ও ভ্রমণ খরচ ক্যালকুলেটর

বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে কত খরচ ও কত সময় লাগবে এক ক্লিকে জানুন

যাত্রীর সংখ্যা:
সড়ক দূরত্ব
133কিলোমিটার

ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ সড়কপথের আনুমানিক দূরত্ব।

আনুমানিক সময়
3.0 ঘণ্টা

যানজট ও যাত্রাবিরতি সহ বাসে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়কাল।

বাস ভাড়া
৳ 286 — 485

নন-এসি: ৳286 | এসি: ৳485 (জনপ্রতি)।

ট্রেন ভাড়া (শোভন)
৳ 200

বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তঃনগর শোভন চেয়ারের সম্ভাব্য ভাড়া।

গোপালগঞ্জ জেলায় কোথায় থাকবেন ও সম্ভাব্য খরচ

খরচ: জনপ্রতি দিনে ১,৫০০–২,৫০০৳

বিসিএস ও এডমিশন সাধারণ জ্ঞান (GK) প্রশ্নোত্তর

1

গোপালগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের কোন বিভাগে অবস্থিত?

উত্তর: ঢাকা বিভাগে।

গোপালগঞ্জ বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক জেলা।

2

গোপালগঞ্জ জেলার ভৌগোলিক সীমানায় উত্তরে কোন অঞ্চল রয়েছে?

উত্তর: ফরিদপুর জেলা।

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী গোপালগঞ্জ জেলার উত্তরে ফরিদপুর জেলা অবস্থিত।

3

গোপালগঞ্জ জেলার প্রধান নদ-নদী কোনগুলো?

উত্তর: মধুমতি, কুমার, বিল রুট।

এসব নদী গোপালগঞ্জ জেলার কৃষি, পলি ও মৎস্য সম্পদের মূল ভিত্তি।

4

গোপালগঞ্জ জেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?

উত্তর: সেক্টর ৮ ও ৯।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই অঞ্চল সেক্টর ৮ ও ৯-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

5

গোপালগঞ্জ জেলার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিশেষত্ব কী?

উত্তর: মধুমতি নদীর তাজা চিতল মাছের কোপ্তা, ঐতিহ্যবাহী রসগোল্লা ও নারিকেলের সন্দেশ।

দেশজুড়ে খাদ্যরসিক ও পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষভাবে সুপরিচিত।

ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলাসমূহ

৬৪ জেলার সম্পূর্ণ ইন্টারঅ্যাক্টিভ মানচিত্র এক্সপ্লোর করুন

আপনার ভ্রমণ করা জেলাগুলো সিলেক্ট করে নিজের রঙিন ট্রাভেল ম্যাপ ডাউনলোড করুন এবং বাকি জেলাগুলোর তথ্য দেখুন।