ঢাকা জেলা(Dhaka)
বাংলাদেশের রাজধানী ও প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো শহর। মুঘল স্থাপত্য, পুরান ঢাকার খাবার আর আধুনিক শহরের মিশেল।
ভৌগোলিক সীমানা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
নামকরণের ইতিহাস
নামের উৎস নিয়ে কয়েকটি মত আছে। একসময় এখানে প্রচুর ঢাক গাছ ছিল, আবার কারও মতে ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে নাম এসেছে। আরেকটি প্রচলিত গল্প হলো, ১৬১০ সালে সুবাদার ইসলাম খান রাজধানী স্থাপনের সময় ঢাক বাজিয়ে উৎসব করা হয়েছিল।
চারদিকের ভৌগোলিক সীমানা
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
সেক্টর ২ (ক্র্যাক প্লাটুন)১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঢাকা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেক্টর ২ (ক্র্যাক প্লাটুন)-এর অধীনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর ও গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
ঢাকা জেলা কেন বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বিশেষত্ব
বাংলাদেশের রাজধানী ও ৪০০ বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ঐতিহাসিক মুঘল মহানগরী
লালবাগ কেল্লা, আহসান মঞ্জিল, তারা মসজিদ ও হোসেনী দালান
লুই কানের স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত অনিন্দ্য সুন্দর জাতীয় সংসদ ভবন
ঢাকাইয়া ঐতিহ্যবাহী বাকরখানি, কাচ্চি বিরিয়ানি ও জিআই পণ্য ঢাকাই জামদানি
শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাব (অবস্থান ও ক্যাম্পাস)
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU)ক্যাম্পাস: ঢাকা সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET)ক্যাম্পাস: ঢাকা সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU)ক্যাম্পাস: ঢাকা সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (JnU)ক্যাম্পাস: ঢাকা সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- ঢাকা মেডিকেল কলেজ (DMC)অবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, ঢাকা
- স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (SSMC)অবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, ঢাকা
- শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজঅবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, ঢাকা
- ঢাকা কলেজ (১৮৪১)অবস্থান: কলেজ রোড, ঢাকা
- নটর ডেম কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, ঢাকা
- ভিকারুননিসা নূন কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, ঢাকা
- সরকারি তিতুমীর কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, ঢাকা
- ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজঅবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, ঢাকা
- আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজঅবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, ঢাকা
- মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, ঢাকা
- সেন্ট গ্রেগরি হাই স্কুলঅবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, ঢাকা
জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ডিরেক্টরি
পূর্ণ ঠিকানা: কালেক্টরেট ভবন ও জেলা প্রশাসন চত্বর, ঢাকা সদর
ই-সেবাকেন্দ্র ও ফ্রন্টডেস্ক সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত
পূর্ণ ঠিকানা: পুলিশ লাইনস ও এসপি কার্যালয় রোড, ঢাকা
পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও জরুরি ডিউটি অফিসার ২৪ ঘণ্টা সচল
পূর্ণ ঠিকানা: সদর হাসপাতাল রোড, ঢাকা সদর
জরুরি বিভাগ (Emergency) ও অ্যাম্বুলেন্স ২৪/৭ সেবা
পূর্ণ ঠিকানা: জজ কোর্ট চত্বর, আদালত রোড, ঢাকা সদর
সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) ও ফৌজদারি-দেওয়ানি আদালত ভবন।
পূর্ণ ঠিকানা: আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবন, ঢাকা সদর
ই-পাসপোর্ট আবেদন, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও পাসপোর্ট বিতরণ।
পূর্ণ ঠিকানা: ফায়ার স্টেশন রোড, ঢাকা সদর
অগ্নিনির্বাপণ, নদী ও সড়ক দুর্ঘটনা উদ্ধারকারী স্পেশাল টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত।
পূর্ণ ঠিকানা: জেলা পরিষদ ভবন, ঢাকা সদর
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিচালনা।
আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি সার্কিট হাউস গাইড
ঠিকানা: সার্কিট হাউস রোড, কালেক্টরেট চত্বর সংলগ্ন, ঢাকা সদর।
ভাড়া: ৳৪০০ - ৳৮০০ (অনুমোদন সাপেক্ষে)
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে বুকিং নিতে হয়।
ঠিকানা: কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, স্টেশন রোড ও শহরের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
ভাড়া: ৳১,২০০ - ৳৩,০০০ / রাত
এসি/নন-এসি রুম, ২৪/৭ জেনারেটর ব্যাকআপ, ওয়াইফাই ও লিফট সুবিধা।
ঠিকানা: নদী তীরবর্তী এলাকা, বনভূমি সংলগ্ন বা প্রধান পর্যটন স্পট রোড।
ভাড়া: ৳২,০০০ - ৳৫,৫০০ / রাত
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (BPC) মোটেল ও প্রাইভেট ইকো-রিসোর্ট।
ঠিকানা: পুরাতন বাজার মোড়, জেলা পরিষদ চত্বর ও লঞ্চঘাট/স্টেশন সংলগ্ন।
ভাড়া: ৳৫০০ - ৳১,০০০ / রাত
একক পর্যটক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।
ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত খাবার ও জিআই পণ্য
পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কাচ্চি বিরিয়ানি, বাকরখানি, চকবাজারের কাবাব ও লাবাং
প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ (8টি) ও পৌঁছানোর রুট
লালবাগ কেল্লা
১৬৭৮ সালে মুঘল সুবেদার শাহজাদা আজম শাহের সময়ে শুরু হওয়া অসমাপ্ত দুর্গ। ভেতরে পরী বিবির মাজার, দরবার হল ও মসজিদ।
যাওয়ার উপায়: পুরান ঢাকার লালবাগে; রিকশা বা সিএনজিতে যাওয়া যায়। রবিবার বন্ধ থাকে।
সেরা সময়: সারা বছর; শীতের বিকেল সবচেয়ে আরামদায়ক
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি (বিদেশিদের জন্য বেশি); রিকশা ভাড়া ৫০–১০০৳
আহসান মঞ্জিল
বুড়িগঙ্গার তীরে ঢাকার নবাবদের গোলাপি প্রাসাদ, এখন জাদুঘর। নবাবি আমলের আসবাব ও ছবি দেখা যায়।
যাওয়ার উপায়: সদরঘাটের কাছে ইসলামপুরে; গুলিস্তান থেকে রিকশায় যাওয়া যায়। বৃহস্পতিবার বন্ধ।
সেরা সময়: সারা বছর; সকালে ভিড় কম
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি; ভেতরে ছবি তোলার নিয়ম দেখে নিন
জাতীয় সংসদ ভবন
স্থপতি লুই কানের নকশায় তৈরি বিশ্ববিখ্যাত আধুনিক স্থাপত্য। চারপাশের লেক ও চন্দ্রিমা উদ্যানে বিকেলে ঘুরতে ভালো লাগে।
যাওয়ার উপায়: শেরেবাংলা নগর, আগারগাঁও; মেট্রোরেলের আগারগাঁও বা ফার্মগেট স্টেশন থেকে কাছে।
সেরা সময়: সারা বছর; বিকেল আর সূর্যাস্তের সময়
প্রবেশ ফি / খরচ: বাইরে ঘোরা বিনামূল্যে; ভেতরে ঢুকতে বিশেষ অনুমতি লাগে
হাতিরঝিল
শহরের মাঝখানে লেক, ব্রিজ আর হাঁটার পথ। সন্ধ্যায় আলোকসজ্জা ও ওয়াটার ট্যাক্সি জনপ্রিয়।
যাওয়ার উপায়: মগবাজার, রামপুরা ও গুলশান থেকে সহজে যাওয়া যায়; ভেতরে চক্রাকার বাস চলে।
সেরা সময়: সারা বছর; সন্ধ্যায় আলোকসজ্জার সময়
প্রবেশ ফি / খরচ: প্রবেশ বিনামূল্যে; ওয়াটার ট্যাক্সি ও চক্রাকার বাসে সামান্য ভাড়া
জাতীয় জাদুঘর
দেশের সবচেয়ে বড় জাদুঘর; প্রত্নতত্ত্ব, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ ও লোকশিল্পের বিশাল সংগ্রহ।
যাওয়ার উপায়: শাহবাগ মোড়ে; বাস বা মেট্রোরেলে শাহবাগ স্টেশন। বৃহস্পতিবার বন্ধ।
সেরা সময়: সারা বছর; বৃষ্টির দিনেও ভালো
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি
তারা মসজিদ
চীনামাটির টুকরো দিয়ে তারার নকশায় সাজানো আঠারো শতকের সুন্দর মসজিদ।
যাওয়ার উপায়: পুরান ঢাকার আরমানিটোলায়; আহসান মঞ্জিল থেকে রিকশায় অল্প পথ।
সেরা সময়: সারা বছর; নামাজের সময় বাদে
প্রবেশ ফি / খরচ: প্রবেশ বিনামূল্যে
ঢাকেশ্বরী মন্দির
ঢাকার সবচেয়ে প্রাচীন ও জাতীয় মন্দির, শহরের নামের সাথে জড়িত বলে ধারণা করা হয়।
যাওয়ার উপায়: পলাশী-বকশীবাজার এলাকায়; লালবাগ কেল্লা থেকে কাছে।
সেরা সময়: সারা বছর; দুর্গাপূজার সময় সবচেয়ে জমজমাট
প্রবেশ ফি / খরচ: প্রবেশ বিনামূল্যে
আর্মেনিয়ান চার্চ
১৭৮১ সালে তৈরি আর্মেনিয়ানদের গির্জা, পুরান ঢাকার বহুজাতিক ইতিহাসের সাক্ষী।
যাওয়ার উপায়: আরমানিটোলায়, তারা মসজিদের কাছেই।
সেরা সময়: সারা বছর; সকালে
প্রবেশ ফি / খরচ: প্রবেশ বিনামূল্যে (তত্ত্বাবধায়কের অনুমতি লাগতে পারে)
ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ঢাকা যাওয়ার রুট গাইড
ঢাকা (গাবতলী, মহাখালী বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল) থেকে ঢাকা সদরের উদ্দেশ্যে দিন-রাত নিয়মিত নন-এসি ও এসি বাস চলাচল করে।
কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি বা নিকটস্থ রেলওয়ে জংশনে আরামদায়ক যাত্রা করা যায়।
জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি, হাইস বা রেন্ট-এ-কারে পরিবারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুত সরাসরি পৌঁছানো যায়।
আন্তঃজেলা দূরত্ব ও ভ্রমণ খরচ ক্যালকুলেটর
বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে কত খরচ ও কত সময় লাগবে এক ক্লিকে জানুন
ঢাকা থেকে ঢাকা সড়কপথের আনুমানিক দূরত্ব।
যানজট ও যাত্রাবিরতি সহ বাসে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়কাল।
নন-এসি: ৳0 | এসি: ৳0 (জনপ্রতি)।
বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তঃনগর শোভন চেয়ারের সম্ভাব্য ভাড়া।
ঢাকা জেলায় কোথায় থাকবেন ও সম্ভাব্য খরচ
খরচ: জনপ্রতি দিনে ১,০০০–২,৫০০৳ (যাতায়াত ও খাওয়া, থাকার খরচ আলাদা)প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা (বিলাসবহুল) • গুলশান-বনানী, পল্টন ও ফার্মগেট এলাকায় মাঝারি মানের অনেক হোটেল (৳২,০০০–৬,০০০)
বিসিএস ও এডমিশন সাধারণ জ্ঞান (GK) প্রশ্নোত্তর
ঢাকা জেলা বাংলাদেশের কোন বিভাগে অবস্থিত?
ঢাকা বাংলাদেশের ঢাকা বিভাগের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক জেলা।
ঢাকা জেলার ভৌগোলিক সীমানায় উত্তরে কোন অঞ্চল রয়েছে?
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ঢাকা জেলার উত্তরে গাজীপুর ও টাঙ্গাইল জেলা অবস্থিত।
ঢাকা জেলার প্রধান নদ-নদী কোনগুলো?
এসব নদী ঢাকা জেলার কৃষি, পলি ও মৎস্য সম্পদের মূল ভিত্তি।
ঢাকা জেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই অঞ্চল সেক্টর ২ (ক্র্যাক প্লাটুন)-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ঢাকা জেলার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিশেষত্ব কী?
দেশজুড়ে খাদ্যরসিক ও পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষভাবে সুপরিচিত।
ঢাকা বিভাগের অন্যান্য জেলাসমূহ
৬৪ জেলার সম্পূর্ণ ইন্টারঅ্যাক্টিভ মানচিত্র এক্সপ্লোর করুন
আপনার ভ্রমণ করা জেলাগুলো সিলেক্ট করে নিজের রঙিন ট্রাভেল ম্যাপ ডাউনলোড করুন এবং বাকি জেলাগুলোর তথ্য দেখুন।