কুমিল্লা জেলা(Cumilla)
প্রাচীন বৌদ্ধ সভ্যতার নিদর্শন ময়নামতি আর রসমালাইয়ের জন্য বিখ্যাত জেলা।
ভৌগোলিক সীমানা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
নামকরণের ইতিহাস
প্রাচীন নাম 'কমলাঙ্ক', যার অর্থ পদ্মফুলের দিঘি। চীনা পর্যটক হিউয়েন সাং এই অঞ্চলকে 'কিয়া-মল-ঙ্কিয়া' বলেছেন। কমলাঙ্ক থেকেই কুমিল্লা নামের উৎপত্তি বলে ধারণা।
চারদিকের ভৌগোলিক সীমানা
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
সেক্টর ২১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে কুমিল্লা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেক্টর ২-এর অধীনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর ও গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
কুমিল্লা জেলা কেন বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বিশেষত্ব
বিশ্বখ্যাত সুস্বাদু জিআই পণ্য কুমিল্লার রসমালাই
ঐতিহ্যবাহী খদ্দর বা খাদি কাপড়ের প্রধান উৎপাদন ও বয়ন কেন্দ্র
অষ্টম শতাব্দীর শালবন বৌদ্ধ বিহার, ময়নামতি ও আনন্দ বিহারের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন
ঐতিহাসিক ধর্মসাগর দিঘি ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (BARD)
শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাব (অবস্থান ও ক্যাম্পাস)
- কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় (CoU)ক্যাম্পাস: কুমিল্লা সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ (CuMC)অবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, কুমিল্লা
- ময়নামতি মেডিকেল কলেজঅবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, কুমিল্লা
- কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ (১৮৯৯)অবস্থান: কলেজ রোড, কুমিল্লা
- কুমিল্লা সরকারি কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, কুমিল্লা
- কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, কুমিল্লা
- কুমিল্লা জিলা স্কুল (১৮৩৭)অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, কুমিল্লা
- নবাব ফয়জুন্নেসা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৭৩)অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, কুমিল্লা
জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ডিরেক্টরি
পূর্ণ ঠিকানা: কালেক্টরেট ভবন ও জেলা প্রশাসন চত্বর, কুমিল্লা সদর
ই-সেবাকেন্দ্র ও ফ্রন্টডেস্ক সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত
পূর্ণ ঠিকানা: পুলিশ লাইনস ও এসপি কার্যালয় রোড, কুমিল্লা
পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও জরুরি ডিউটি অফিসার ২৪ ঘণ্টা সচল
পূর্ণ ঠিকানা: সদর হাসপাতাল রোড, কুমিল্লা সদর
জরুরি বিভাগ (Emergency) ও অ্যাম্বুলেন্স ২৪/৭ সেবা
পূর্ণ ঠিকানা: জজ কোর্ট চত্বর, আদালত রোড, কুমিল্লা সদর
সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) ও ফৌজদারি-দেওয়ানি আদালত ভবন।
পূর্ণ ঠিকানা: আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবন, কুমিল্লা সদর
ই-পাসপোর্ট আবেদন, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও পাসপোর্ট বিতরণ।
পূর্ণ ঠিকানা: ফায়ার স্টেশন রোড, কুমিল্লা সদর
অগ্নিনির্বাপণ, নদী ও সড়ক দুর্ঘটনা উদ্ধারকারী স্পেশাল টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত।
পূর্ণ ঠিকানা: জেলা পরিষদ ভবন, কুমিল্লা সদর
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিচালনা।
আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি সার্কিট হাউস গাইড
ঠিকানা: সার্কিট হাউস রোড, কালেক্টরেট চত্বর সংলগ্ন, কুমিল্লা সদর।
ভাড়া: ৳৪০০ - ৳৮০০ (অনুমোদন সাপেক্ষে)
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে বুকিং নিতে হয়।
ঠিকানা: কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, স্টেশন রোড ও শহরের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
ভাড়া: ৳১,২০০ - ৳৩,০০০ / রাত
এসি/নন-এসি রুম, ২৪/৭ জেনারেটর ব্যাকআপ, ওয়াইফাই ও লিফট সুবিধা।
ঠিকানা: নদী তীরবর্তী এলাকা, বনভূমি সংলগ্ন বা প্রধান পর্যটন স্পট রোড।
ভাড়া: ৳২,০০০ - ৳৫,৫০০ / রাত
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (BPC) মোটেল ও প্রাইভেট ইকো-রিসোর্ট।
ঠিকানা: পুরাতন বাজার মোড়, জেলা পরিষদ চত্বর ও লঞ্চঘাট/স্টেশন সংলগ্ন।
ভাড়া: ৳৫০০ - ৳১,০০০ / রাত
একক পর্যটক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।
ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত খাবার ও জিআই পণ্য
মাতৃভাণ্ডারের খাঁটি রসমালাই, পেড়া প্যারা ও রসগোল্লা
প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ (4টি) ও পৌঁছানোর রুট
শালবন বিহার
সপ্তম-অষ্টম শতকের বৌদ্ধ বিহারের ধ্বংসাবশেষ; পাশেই ময়নামতি জাদুঘর।
যাওয়ার উপায়: কোটবাড়িতে; কুমিল্লা শহর থেকে সিএনজিতে প্রায় ৯ কিমি।
সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি
ময়নামতি ওয়ার সিমেট্রি
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাধিক্ষেত্র, সবুজ ও শান্ত।
যাওয়ার উপায়: কুমিল্লা-সিলেট মহাসড়কের পাশে, শহর থেকে প্রায় ৭ কিমি।
সেরা সময়: সারা বছর
প্রবেশ ফি / খরচ: বিনামূল্যে
ময়নামতি জাদুঘর
ময়নামতি অঞ্চলের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন: মূর্তি, মুদ্রা ও পোড়ামাটির ফলক।
যাওয়ার উপায়: শালবন বিহারের পাশে।
সেরা সময়: সারা বছর
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি
ধর্মসাগর দিঘি
শহরের মাঝখানে ১৫ শতকে খনন করা বিশাল দিঘি; বিকেলে হাঁটার জায়গা।
যাওয়ার উপায়: কুমিল্লা শহরের কেন্দ্রে।
সেরা সময়: সারা বছর; বিকেল
প্রবেশ ফি / খরচ: বিনামূল্যে; নৌকায় ঘোরা সামান্য খরচ
ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে কুমিল্লা যাওয়ার রুট গাইড
ঢাকা (গাবতলী, মহাখালী বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল) থেকে কুমিল্লা সদরের উদ্দেশ্যে দিন-রাত নিয়মিত নন-এসি ও এসি বাস চলাচল করে।
কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি বা নিকটস্থ রেলওয়ে জংশনে আরামদায়ক যাত্রা করা যায়।
জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি, হাইস বা রেন্ট-এ-কারে পরিবারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুত সরাসরি পৌঁছানো যায়।
আন্তঃজেলা দূরত্ব ও ভ্রমণ খরচ ক্যালকুলেটর
বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে কত খরচ ও কত সময় লাগবে এক ক্লিকে জানুন
ঢাকা থেকে কুমিল্লা সড়কপথের আনুমানিক দূরত্ব।
যানজট ও যাত্রাবিরতি সহ বাসে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়কাল।
নন-এসি: ৳241 | এসি: ৳409 (জনপ্রতি)।
বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তঃনগর শোভন চেয়ারের সম্ভাব্য ভাড়া।
কুমিল্লা জেলায় কোথায় থাকবেন ও সম্ভাব্য খরচ
খরচ: জনপ্রতি দিনে ১,৫০০–৩,০০০৳কোটবাড়ি ও শহরে মাঝারি মানের হোটেল; বার্ডের (BARD) অতিথিশালা
বিসিএস ও এডমিশন সাধারণ জ্ঞান (GK) প্রশ্নোত্তর
কুমিল্লা জেলা বাংলাদেশের কোন বিভাগে অবস্থিত?
কুমিল্লা বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক জেলা।
কুমিল্লা জেলার ভৌগোলিক সীমানায় উত্তরে কোন অঞ্চল রয়েছে?
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী কুমিল্লা জেলার উত্তরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও নারায়ণগঞ্জ জেলা অবস্থিত।
কুমিল্লা জেলার প্রধান নদ-নদী কোনগুলো?
এসব নদী কুমিল্লা জেলার কৃষি, পলি ও মৎস্য সম্পদের মূল ভিত্তি।
কুমিল্লা জেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই অঞ্চল সেক্টর ২-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
কুমিল্লা জেলার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিশেষত্ব কী?
দেশজুড়ে খাদ্যরসিক ও পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষভাবে সুপরিচিত।
চট্টগ্রাম বিভাগের অন্যান্য জেলাসমূহ
৬৪ জেলার সম্পূর্ণ ইন্টারঅ্যাক্টিভ মানচিত্র এক্সপ্লোর করুন
আপনার ভ্রমণ করা জেলাগুলো সিলেক্ট করে নিজের রঙিন ট্রাভেল ম্যাপ ডাউনলোড করুন এবং বাকি জেলাগুলোর তথ্য দেখুন।