রাজশাহী বিভাগস্থানাঙ্ক: 24.8465228° N, 89.377755° Eঢাকা থেকে দূরত্ব: 200 কিমি

বগুড়া জেলা(Bogura)

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার; প্রাচীন পুণ্ড্রনগর মহাস্থানগড় আর দইয়ের জন্য বিখ্যাত।

মোট আয়তন2899 বর্গ কিমি
জনসংখ্যা৩৭,৩৪,৩০০
সাক্ষরতার হার৭৪.৬%
উপজেলা সংখ্যা12টি
যাতায়াত সময়৪–৫ ঘণ্টা
প্রধান নদ-নদীকরতোয়া, যমুনা

ভৌগোলিক সীমানা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

নামকরণের ইতিহাস

বাংলার সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের পুত্র নাসিরুদ্দিন বগরা খান ১২৭৯-১২৮২ সালে এই অঞ্চল শাসন করেন। তাঁর নামেই নাম হয় বগুড়া।

চারদিকের ভৌগোলিক সীমানা

উত্তর দিকগাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলা
দক্ষিণ দিকসিরাজগঞ্জ ও নাটোর জেলা
পূর্ব দিকজামালপুর ও সিরাজগঞ্জ জেলা (যমুনা নদী)
পশ্চিম দিকনওগাঁ ও জয়পুরহাট জেলা

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম

সেক্টর ৭

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বগুড়া জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেক্টর ৭-এর অধীনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর ও গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানমোহাম্মদ আলী বগুড়া (সাবেক প্রধানমন্ত্রী)আখতারুজ্জামান ইলিয়াসরোকেয়া রহমান কবির

বগুড়া জেলা কেন বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বিশেষত্ব

ঐতিহ্য ও জাতীয় অবদান
1

উত্তরবঙ্গের প্রবেশদ্বার ও আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন মহাস্থানগড় (পুন্ড্রনগর)

2

বিশ্বখ্যাত সুস্বাদু বগুড়ার আসল দই (ঐতিহাসিক জিআই পণ্য)

3

সুলতানি আমলের খেরুয়া মসজিদ ও ভাসু বিহার প্রাচীন বৌদ্ধ প্রত্নক্ষেত্র

4

রপ্তানিমুখী ফাউন্ড্রি ও হালকা প্রকৌশল শিল্প হাব এবং পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (RDA)

শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাব (অবস্থান ও ক্যাম্পাস)

বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, কলেজ ও স্কুল
বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ
  • বগুড়া বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (প্রস্তাবিত)ক্যাম্পাস: বগুড়া সদর ও সংলগ্ন এলাকা
  • পুন্ড্র ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাম্পাস: বগুড়া সদর ও সংলগ্ন এলাকা
মেডিকেল ও নার্সিং
  • শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (SZMC)অবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, বগুড়া
ঐতিহ্যবাহী সেরা কলেজ
  • সরকারি আজিজুল হক কলেজ (১৯৩৯)অবস্থান: কলেজ রোড, বগুড়া
  • বগুড়া সরকারি মহিলা কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, বগুড়া
  • সরকারি শাহ সুলতান কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, বগুড়া
শতবর্ষী ও সেরা স্কুল
  • বগুড়া জিলা স্কুল (১৮৫৩)অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, বগুড়া
  • বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, বগুড়া

জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ডিরেক্টরি

অফিস সময়: রবিবার - বৃহস্পতিবার, সকাল ৯:০০ - বিকাল ৫:০০
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বগুড়া
প্রশাসন

পূর্ণ ঠিকানা: কালেক্টরেট ভবন ও জেলা প্রশাসন চত্বর, বগুড়া সদর

ই-সেবাকেন্দ্র ও ফ্রন্টডেস্ক সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত

পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ২৪/৭ কন্ট্রোল রুম, বগুড়া
২৪/৭ নিরাপত্তা

পূর্ণ ঠিকানা: পুলিশ লাইনস ও এসপি কার্যালয় রোড, বগুড়া

পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও জরুরি ডিউটি অফিসার ২৪ ঘণ্টা সচল

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, বগুড়া
জরুরি স্বাস্থ্য

পূর্ণ ঠিকানা: সদর হাসপাতাল রোড, বগুড়া সদর

জরুরি বিভাগ (Emergency) ও অ্যাম্বুলেন্স ২৪/৭ সেবা

জেলা ও দায়রা জজ আদালত
বিচার বিভাগ

পূর্ণ ঠিকানা: জজ কোর্ট চত্বর, আদালত রোড, বগুড়া সদর

সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) ও ফৌজদারি-দেওয়ানি আদালত ভবন।

আইনি সহায়তা হটলাইন:১৬৪৩০ (টোল ফ্রি)
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, বগুড়া
নাগরিক সেবা

পূর্ণ ঠিকানা: আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবন, বগুড়া সদর

ই-পাসপোর্ট আবেদন, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও পাসপোর্ট বিতরণ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন
জরুরি উদ্ধার

পূর্ণ ঠিকানা: ফায়ার স্টেশন রোড, বগুড়া সদর

অগ্নিনির্বাপণ, নদী ও সড়ক দুর্ঘটনা উদ্ধারকারী স্পেশাল টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত।

জরুরি হটলাইন:১০৬৫৫ / ৯৯৯
জেলা পরিষদ কার্যালয়
স্থানীয় সরকার

পূর্ণ ঠিকানা: জেলা পরিষদ ভবন, বগুড়া সদর

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিচালনা।

সেবা সময়:রবি-বৃহস্পতি সকাল ৯টা - বিকাল ৫টা

আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি সার্কিট হাউস গাইড

বগুড়া জেলায় কোথায় থাকবেন, সঠিক লোকেশন ও সম্ভাব্য ভাড়া
জেলা সার্কিট হাউসসরকারি ভিআইপি

ঠিকানা: সার্কিট হাউস রোড, কালেক্টরেট চত্বর সংলগ্ন, বগুড়া সদর।

ভাড়া: ৳৪০০ - ৳৮০০ (অনুমোদন সাপেক্ষে)

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে বুকিং নিতে হয়।

৩-স্টার ও সিটি হোটেলস্ট্যান্ডার্ড

ঠিকানা: কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, স্টেশন রোড ও শহরের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

ভাড়া: ৳১,২০০ - ৳৩,০০০ / রাত

এসি/নন-এসি রুম, ২৪/৭ জেনারেটর ব্যাকআপ, ওয়াইফাই ও লিফট সুবিধা।

পর্যটন মোটেল ও রিসোর্টইকো ও পর্যটন

ঠিকানা: নদী তীরবর্তী এলাকা, বনভূমি সংলগ্ন বা প্রধান পর্যটন স্পট রোড।

ভাড়া: ৳২,০০০ - ৳৫,৫০০ / রাত

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (BPC) মোটেল ও প্রাইভেট ইকো-রিসোর্ট।

বাজেট হোটেল ও ডাকবাংলোবাজেট ফ্রেন্ডলি

ঠিকানা: পুরাতন বাজার মোড়, জেলা পরিষদ চত্বর ও লঞ্চঘাট/স্টেশন সংলগ্ন।

ভাড়া: ৳৫০০ - ৳১,০০০ / রাত

একক পর্যটক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।

টিপস: যেকোনো হোটেলে চেক-ইন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্মনিবন্ধন কার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন করতে হয়। ছুটির দিনে ভ্রমণের পূর্বে অগ্রিম যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করা ভালো।

ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত খাবার ও জিআই পণ্য

ঐতিহ্যবাহী খাবার:

বিশ্বখ্যাত বগুড়ার সুস্বাদু আসল দই, ক্ষীরসা ও ঐতিহ্যবাহী খাস্তা কটকটি

সরকার ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জিআই (GI) পণ্যসমূহ:
🌟 বগুড়ার দই (জিআই পণ্য)

প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ (4টি) ও পৌঁছানোর রুট

সঠিক লোকেশন, যাতায়াত রুট ও খরচ

মহাস্থানগড়

খ্রিস্টপূর্ব তৃতীয় শতকের পুণ্ড্রনগর; দেশের প্রাচীনতম নগরের ধ্বংসাবশেষ ও জাদুঘর।

যাওয়ার উপায়: বগুড়া শহর থেকে প্রায় ১৩ কিমি; রংপুর রোডে বাস/সিএনজি।

সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ

প্রবেশ ফি / খরচ: জাদুঘরে সামান্য প্রবেশ ফি

বেহুলার বাসরঘর (গোকুল মেধ)

বেহুলা-লখিন্দরের লোককথার সাথে জড়িত প্রাচীন ইটের স্থাপনা।

যাওয়ার উপায়: মহাস্থানগড় থেকে প্রায় ২ কিমি।

সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ

প্রবেশ ফি / খরচ: বিনামূল্যে

খেরুয়া মসজিদ

১৫৮২ সালের সুন্দর তিন গম্বুজ মসজিদ।

যাওয়ার উপায়: শেরপুর উপজেলায়; বগুড়া থেকে প্রায় ২০ কিমি।

সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ

প্রবেশ ফি / খরচ: বিনামূল্যে

নওয়াব প্যালেস ও উডবার্ন পার্ক

বগুড়ার নবাবদের বাড়ি ও শহরের পার্ক।

যাওয়ার উপায়: শহরের সাতমাথার কাছে।

সেরা সময়: সারা বছর

প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি

ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে বগুড়া যাওয়ার রুট গাইড

দূরত্ব: 200 কিমি • আনুমানিক সময়: ৪–৫ ঘণ্টা
বাস সার্ভিস (সরাসরি)

ঢাকা (গাবতলী, মহাখালী বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল) থেকে বগুড়া সদরের উদ্দেশ্যে দিন-রাত নিয়মিত নন-এসি ও এসি বাস চলাচল করে।

ভাড়া: ৳৩৫০ - ৳১,২০০ (কোচ ও এসি সাপেক্ষে)
রেল যোগাযোগ ও এক্সপ্রেস ট্রেন

কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি বা নিকটস্থ রেলওয়ে জংশনে আরামদায়ক যাত্রা করা যায়।

শোভন চেয়ার: ৳১৮০ - ৳৬৫০ (দূরত্ব অনুযায়ী)
নিজস্ব গাড়ি ও মহাসড়ক রুট

জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি, হাইস বা রেন্ট-এ-কারে পরিবারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুত সরাসরি পৌঁছানো যায়।

সিএনজি/পেট্রল খরচ: দূরত্ব অনুযায়ী ৩,০০০৳ - ৮,০০০৳
স্থানীয় যাতায়াত টিপস: মহাখালী/গাবতলী থেকে গ্রীন লাইন, এস আর, শাহ ফতেহ আলী, হানিফ; নন-এসি ৫০০–৬৫০৳, এসি ১,০০০–১,৩০০৳। • লালমনি/রংপুর এক্সপ্রেসে সান্তাহার বা বগুড়া।
স্মার্ট ভ্রমণ নির্দেশিকা ও এস্টিমেটর

আন্তঃজেলা দূরত্ব ও ভ্রমণ খরচ ক্যালকুলেটর

বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে কত খরচ ও কত সময় লাগবে এক ক্লিকে জানুন

যাত্রীর সংখ্যা:
সড়ক দূরত্ব
221কিলোমিটার

ঢাকা থেকে বগুড়া সড়কপথের আনুমানিক দূরত্ব।

আনুমানিক সময়
4.9 ঘণ্টা

যানজট ও যাত্রাবিরতি সহ বাসে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়কাল।

বাস ভাড়া
৳ 475 — 807

নন-এসি: ৳475 | এসি: ৳807 (জনপ্রতি)।

ট্রেন ভাড়া (শোভন)
৳ 332

বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তঃনগর শোভন চেয়ারের সম্ভাব্য ভাড়া।

বগুড়া জেলায় কোথায় থাকবেন ও সম্ভাব্য খরচ

খরচ: জনপ্রতি দিনে ১,৫০০–৩,০০০৳

মম ইন (বিলাসবহুল রিসোর্ট) • নাজ গার্ডেন হোটেল • পর্যটন মোটেল বগুড়া

বিসিএস ও এডমিশন সাধারণ জ্ঞান (GK) প্রশ্নোত্তর

1

বগুড়া জেলা বাংলাদেশের কোন বিভাগে অবস্থিত?

উত্তর: রাজশাহী বিভাগে।

বগুড়া বাংলাদেশের রাজশাহী বিভাগের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক জেলা।

2

বগুড়া জেলার ভৌগোলিক সীমানায় উত্তরে কোন অঞ্চল রয়েছে?

উত্তর: গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলা।

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী বগুড়া জেলার উত্তরে গাইবান্ধা ও জয়পুরহাট জেলা অবস্থিত।

3

বগুড়া জেলার প্রধান নদ-নদী কোনগুলো?

উত্তর: করতোয়া, যমুনা, নাগর।

এসব নদী বগুড়া জেলার কৃষি, পলি ও মৎস্য সম্পদের মূল ভিত্তি।

4

বগুড়া জেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?

উত্তর: সেক্টর ৭।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই অঞ্চল সেক্টর ৭-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

5

বগুড়া জেলার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিশেষত্ব কী?

উত্তর: বিশ্বখ্যাত বগুড়ার সুস্বাদু আসল দই, ক্ষীরসা ও ঐতিহ্যবাহী খাস্তা কটকটি।

দেশজুড়ে খাদ্যরসিক ও পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষভাবে সুপরিচিত।

রাজশাহী বিভাগের অন্যান্য জেলাসমূহ

৬৪ জেলার সম্পূর্ণ ইন্টারঅ্যাক্টিভ মানচিত্র এক্সপ্লোর করুন

আপনার ভ্রমণ করা জেলাগুলো সিলেক্ট করে নিজের রঙিন ট্রাভেল ম্যাপ ডাউনলোড করুন এবং বাকি জেলাগুলোর তথ্য দেখুন।