বরিশাল বিভাগস্থানাঙ্ক: 22.685923° N, 90.648179° Eঢাকা থেকে দূরত্ব: 200 কিমি

ভোলা জেলা(Bhola)

দেশের সবচেয়ে বড় দ্বীপ-জেলা; মেঘনার চর, ম্যানগ্রোভ আর মনপুরার সৌন্দর্য।

মোট আয়তন3403 বর্গ কিমি
জনসংখ্যা১৭,৭৬,৮৯৫
সাক্ষরতার হার৬৪.৮%
উপজেলা সংখ্যা7টি
যাতায়াত সময়৬–৮ ঘণ্টা (লঞ্চে)
প্রধান নদ-নদীমেঘনা, তেঁতুলিয়া

ভৌগোলিক সীমানা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট

নামকরণের ইতিহাস

প্রচলিত মতে, ভোলা গাজী পাটনী নামের এক মাঝি এখানে খেয়া পারাপার করতেন। তাঁর নাম থেকেই দ্বীপের নাম হয় ভোলা।

চারদিকের ভৌগোলিক সীমানা

উত্তর দিকলক্ষ্মীপুর ও বরিশাল জেলা
দক্ষিণ দিকবঙ্গোপসাগর
পূর্ব দিকমেঘনা নদী ও লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী জেলা
পশ্চিম দিকতেঁতুলিয়া নদী ও বরিশাল-পটুয়াখালী জেলা

মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম

সেক্টর ৯

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভোলা জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেক্টর ৯-এর অধীনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর ও গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।

ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ

বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামালতোফায়েল আহমেদনাজিমুদ্দিন মোস্তান

ভোলা জেলা কেন বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বিশেষত্ব

ঐতিহ্য ও জাতীয় অবদান
1

বাংলাদেশের একমাত্র ও বৃহত্তম প্রাকৃতিক দ্বীপ জেলা

2

চর কুকরি-মুকরি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য ও অতিথি পাখির স্বর্গরাজ্য

3

দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রাকৃতিক গ্যাস ক্ষেত্র (শাহবাজপুর গ্যাস ফিল্ড)

4

মনপুরা দ্বীপের অনাবিল ম্যানগ্রোভ সৌন্দর্য ও তেঁতুলিয়া নদীর মোহনা

শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাব (অবস্থান ও ক্যাম্পাস)

বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, কলেজ ও স্কুল
বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ
  • ভোলা বিশ্ববিদ্যালয় (প্রস্তাবিত)ক্যাম্পাস: ভোলা সদর ও সংলগ্ন এলাকা
  • ভোলা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটক্যাম্পাস: ভোলা সদর ও সংলগ্ন এলাকা
মেডিকেল ও নার্সিং
  • ভোলা মেডিকেল কলেজ (প্রস্তাবিত/সদর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল সংলগ্ন)অবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, ভোলা
ঐতিহ্যবাহী সেরা কলেজ
  • ভোলা সরকারি কলেজ (১৯৬৩)অবস্থান: কলেজ রোড, ভোলা
  • ভোলা সরকারি মহিলা কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, ভোলা
শতবর্ষী ও সেরা স্কুল
  • ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৯১৮)অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, ভোলা
  • ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, ভোলা

জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ডিরেক্টরি

অফিস সময়: রবিবার - বৃহস্পতিবার, সকাল ৯:০০ - বিকাল ৫:০০
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, ভোলা
প্রশাসন

পূর্ণ ঠিকানা: কালেক্টরেট ভবন ও জেলা প্রশাসন চত্বর, ভোলা সদর

ই-সেবাকেন্দ্র ও ফ্রন্টডেস্ক সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত

পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ২৪/৭ কন্ট্রোল রুম, ভোলা
২৪/৭ নিরাপত্তা

পূর্ণ ঠিকানা: পুলিশ লাইনস ও এসপি কার্যালয় রোড, ভোলা

পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও জরুরি ডিউটি অফিসার ২৪ ঘণ্টা সচল

সিভিল সার্জন কার্যালয় ও ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, ভোলা
জরুরি স্বাস্থ্য

পূর্ণ ঠিকানা: সদর হাসপাতাল রোড, ভোলা সদর

জরুরি বিভাগ (Emergency) ও অ্যাম্বুলেন্স ২৪/৭ সেবা

জেলা ও দায়রা জজ আদালত
বিচার বিভাগ

পূর্ণ ঠিকানা: জজ কোর্ট চত্বর, আদালত রোড, ভোলা সদর

সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) ও ফৌজদারি-দেওয়ানি আদালত ভবন।

আইনি সহায়তা হটলাইন:১৬৪৩০ (টোল ফ্রি)
আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিস, ভোলা
নাগরিক সেবা

পূর্ণ ঠিকানা: আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবন, ভোলা সদর

ই-পাসপোর্ট আবেদন, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও পাসপোর্ট বিতরণ।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন
জরুরি উদ্ধার

পূর্ণ ঠিকানা: ফায়ার স্টেশন রোড, ভোলা সদর

অগ্নিনির্বাপণ, নদী ও সড়ক দুর্ঘটনা উদ্ধারকারী স্পেশাল টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত।

জরুরি হটলাইন:১০৬৫৫ / ৯৯৯
জেলা পরিষদ কার্যালয়
স্থানীয় সরকার

পূর্ণ ঠিকানা: জেলা পরিষদ ভবন, ভোলা সদর

গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিচালনা।

সেবা সময়:রবি-বৃহস্পতি সকাল ৯টা - বিকাল ৫টা

আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি সার্কিট হাউস গাইড

ভোলা জেলায় কোথায় থাকবেন, সঠিক লোকেশন ও সম্ভাব্য ভাড়া
জেলা সার্কিট হাউসসরকারি ভিআইপি

ঠিকানা: সার্কিট হাউস রোড, কালেক্টরেট চত্বর সংলগ্ন, ভোলা সদর।

ভাড়া: ৳৪০০ - ৳৮০০ (অনুমোদন সাপেক্ষে)

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে বুকিং নিতে হয়।

৩-স্টার ও সিটি হোটেলস্ট্যান্ডার্ড

ঠিকানা: কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, স্টেশন রোড ও শহরের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র।

ভাড়া: ৳১,২০০ - ৳৩,০০০ / রাত

এসি/নন-এসি রুম, ২৪/৭ জেনারেটর ব্যাকআপ, ওয়াইফাই ও লিফট সুবিধা।

পর্যটন মোটেল ও রিসোর্টইকো ও পর্যটন

ঠিকানা: নদী তীরবর্তী এলাকা, বনভূমি সংলগ্ন বা প্রধান পর্যটন স্পট রোড।

ভাড়া: ৳২,০০০ - ৳৫,৫০০ / রাত

বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (BPC) মোটেল ও প্রাইভেট ইকো-রিসোর্ট।

বাজেট হোটেল ও ডাকবাংলোবাজেট ফ্রেন্ডলি

ঠিকানা: পুরাতন বাজার মোড়, জেলা পরিষদ চত্বর ও লঞ্চঘাট/স্টেশন সংলগ্ন।

ভাড়া: ৳৫০০ - ৳১,০০০ / রাত

একক পর্যটক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।

টিপস: যেকোনো হোটেলে চেক-ইন করার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) অথবা জন্মনিবন্ধন কার্ডের ফটোকপি প্রদর্শন করতে হয়। ছুটির দিনে ভ্রমণের পূর্বে অগ্রিম যোগাযোগ করে বুকিং নিশ্চিত করা ভালো।

ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত খাবার ও জিআই পণ্য

ঐতিহ্যবাহী খাবার:

মহিষের দুধের খাঁটি কাঁচা দধি (দই), রসগোল্লা ও মেঘনার রূপালী ইলিশ

সরকার ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত জিআই (GI) পণ্যসমূহ:
🌟 ভোলার মহিষের দুধের কাঁচা দধি (জিআই পণ্য)

প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ (3টি) ও পৌঁছানোর রুট

সঠিক লোকেশন, যাতায়াত রুট ও খরচ

মনপুরা দ্বীপ

মেঘনার বুকে সবুজ দ্বীপ; হরিণ, ম্যানগ্রোভ আর মাছ ধরার দৃশ্য।

যাওয়ার উপায়: সদরঘাট থেকে সরাসরি লঞ্চে বা তজুমদ্দিন থেকে ট্রলারে।

সেরা সময়: নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি

প্রবেশ ফি / খরচ: লঞ্চ কেবিন ১,২০০–২,৫০০৳; দ্বীপে মোটরসাইকেল ভাড়া দিনে ৮০০–১,৫০০৳

চর কুকরি-মুকরি

ম্যানগ্রোভ বন, চিত্রা হরিণ আর নির্জন সৈকত।

যাওয়ার উপায়: চরফ্যাশন থেকে কচ্ছপিয়া ঘাট, তারপর ট্রলারে।

সেরা সময়: নভেম্বর–ফেব্রুয়ারি

প্রবেশ ফি / খরচ: কচ্ছপিয়া থেকে ট্রলার রিজার্ভ ২,০০০–৪,০০০৳

জ্যাকব ওয়াচ টাওয়ার

চরফ্যাশন শহরের উঁচু ওয়াচ টাওয়ার, চারপাশের দৃশ্য দেখা যায়।

যাওয়ার উপায়: চরফ্যাশন শহরের কেন্দ্রে।

সেরা সময়: সারা বছর; পরিষ্কার দিনে

প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি

ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে ভোলা যাওয়ার রুট গাইড

দূরত্ব: 200 কিমি • আনুমানিক সময়: ৬–৮ ঘণ্টা (লঞ্চে)
বাস সার্ভিস (সরাসরি)

ঢাকা (গাবতলী, মহাখালী বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল) থেকে ভোলা সদরের উদ্দেশ্যে দিন-রাত নিয়মিত নন-এসি ও এসি বাস চলাচল করে।

ভাড়া: ৳৩৫০ - ৳১,২০০ (কোচ ও এসি সাপেক্ষে)
রেল যোগাযোগ ও এক্সপ্রেস ট্রেন

কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি বা নিকটস্থ রেলওয়ে জংশনে আরামদায়ক যাত্রা করা যায়।

শোভন চেয়ার: ৳১৮০ - ৳৬৫০ (দূরত্ব অনুযায়ী)
নিজস্ব গাড়ি ও মহাসড়ক রুট

জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি, হাইস বা রেন্ট-এ-কারে পরিবারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুত সরাসরি পৌঁছানো যায়।

সিএনজি/পেট্রল খরচ: দূরত্ব অনুযায়ী ৩,০০০৳ - ৮,০০০৳
স্থানীয় যাতায়াত টিপস: সদরঘাট থেকে ভোলা/ইলিশা, চরফ্যাশন (বেতুয়া) ও মনপুরার লঞ্চ; ডেক ৩০০–৪৫০৳, কেবিন ১,২০০–৩,০০০৳। • বরিশাল হয়ে লাহারহাট ফেরি পার হয়ে ভোলা।
স্মার্ট ভ্রমণ নির্দেশিকা ও এস্টিমেটর

আন্তঃজেলা দূরত্ব ও ভ্রমণ খরচ ক্যালকুলেটর

বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে কত খরচ ও কত সময় লাগবে এক ক্লিকে জানুন

যাত্রীর সংখ্যা:
সড়ক দূরত্ব
157কিলোমিটার

ঢাকা থেকে ভোলা সড়কপথের আনুমানিক দূরত্ব।

আনুমানিক সময়
3.5 ঘণ্টা

যানজট ও যাত্রাবিরতি সহ বাসে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়কাল।

বাস ভাড়া
৳ 338 — 573

নন-এসি: ৳338 | এসি: ৳573 (জনপ্রতি)।

ট্রেন ভাড়া (শোভন)
৳ 236

বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তঃনগর শোভন চেয়ারের সম্ভাব্য ভাড়া।

ভোলা জেলায় কোথায় থাকবেন ও সম্ভাব্য খরচ

খরচ: জনপ্রতি দিনে ১,৫০০–৩,০০০৳

চরফ্যাশন ও ভোলা শহরে সাধারণ মানের হোটেল; মনপুরায় সরকারি ডাকবাংলো/রিসোর্ট

বিসিএস ও এডমিশন সাধারণ জ্ঞান (GK) প্রশ্নোত্তর

1

ভোলা জেলা বাংলাদেশের কোন বিভাগে অবস্থিত?

উত্তর: বরিশাল বিভাগে।

ভোলা বাংলাদেশের বরিশাল বিভাগের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক জেলা।

2

ভোলা জেলার ভৌগোলিক সীমানায় উত্তরে কোন অঞ্চল রয়েছে?

উত্তর: লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল জেলা।

ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী ভোলা জেলার উত্তরে লক্ষ্মীপুর ও বরিশাল জেলা অবস্থিত।

3

ভোলা জেলার প্রধান নদ-নদী কোনগুলো?

উত্তর: মেঘনা, তেঁতুলিয়া, ইলিশা।

এসব নদী ভোলা জেলার কৃষি, পলি ও মৎস্য সম্পদের মূল ভিত্তি।

4

ভোলা জেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?

উত্তর: সেক্টর ৯।

১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই অঞ্চল সেক্টর ৯-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।

5

ভোলা জেলার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিশেষত্ব কী?

উত্তর: মহিষের দুধের খাঁটি কাঁচা দধি (দই), রসগোল্লা ও মেঘনার রূপালী ইলিশ।

দেশজুড়ে খাদ্যরসিক ও পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষভাবে সুপরিচিত।

বরিশাল বিভাগের অন্যান্য জেলাসমূহ

৬৪ জেলার সম্পূর্ণ ইন্টারঅ্যাক্টিভ মানচিত্র এক্সপ্লোর করুন

আপনার ভ্রমণ করা জেলাগুলো সিলেক্ট করে নিজের রঙিন ট্রাভেল ম্যাপ ডাউনলোড করুন এবং বাকি জেলাগুলোর তথ্য দেখুন।