## 🎨 ষষ্ঠ শ্রেণি চারু ও কারুকলা — গোল্ডেন স্ট্যান্ডার্ড সম্পূর্ণ বই হ্যান্ডনোট (PDF)

বাংলাদেশের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য এনসিটিবি পাঠ্যক্রমের সর্বশেষ সংস্করণ অনুযায়ী চারু ও কারুকলা বইটির সকল অধ্যায়ের পুঙ্খানুপুঙ্খ অধ্যায়ভিত্তিক গাইড, সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, এবং কুইজ সম্ভার নিয়ে মেধাবী একাডেমি প্রকাশ করেছে এই বিশেষ সুপার হ্যান্ডনোট।

চারুকলা কেবল ছবি আঁকা নয়—এটি মানুষের মনের ভাব প্রকাশ, আনন্দ উদযাপন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং সূক্ষ্ম পর্যবেক্ষণ ও সৌন্দর্যবোধ সৃষ্টির এক সর্বজনীন আন্তর্জাতিক ভাষা।


📚 সম্পূর্ণ বইটির ৭টি অধ্যায়ের সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা:

অধ্যায় ১: চারু ও কারুকলার পরিচয়

  • চারুকলা (Fine Arts): মনের আনন্দ ও সৌন্দর্য সৃষ্টির জন্য দৃশ্যকলার চর্চা (ছবি আঁকা, ভাস্কর্য)।
  • কারুকলা (Crafts): দৈনন্দিন ব্যবহারিক প্রয়োজনের বস্তুতে নান্দনিক সৌন্দর্য ও নকশার রূপ দেওয়া (চেয়ার-টেবিল, হাঁড়ি-পাতিল, শীতলপাটি)।
  • আদিম মানুষের শিল্পকলা: ফ্রান্স ও স্পেনের প্রাকৃতিক গুহায় বাইসন ও ম্যামথের চিত্র; শিকার সফল করার জাদুবিশ্বাস; পশুর চর্বি মেশানো মাটির টেকসই রং।
  • আন্তর্জাতিক ভাষা: শিল্পকলা কোনো বর্ণমালার সীমাবদ্ধতায় আবদ্ধ নয়—এটি পৃথিবীর সর্বজনীন ভাষা।

অধ্যায় ২: বাংলাদেশের চারু ও কারুকলা শিক্ষার ইতিহাস

  • প্রতিষ্ঠা: ১৯৪৮ সালে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় প্রথম 'গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট' (বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ)।
  • সহযোগী পথিকৃৎগণ: পটুয়া কামরুল হাসান, আনোয়ারুল হক, শফিউদ্দীন আহমেদ, খাজা শফিক আহমেদ ও হাবিবুর রহমান।
  • প্রথম ঠিকানা: আরমানিটোলার ছোট ভাড়াবাড়ি; পরবর্তীতে ১৯৫৬ সালে শাহবাগে স্থপতি মাজহারুল ইসলামের নকশায় নিজস্ব আধুনিক ভবন।
  • কালজয়ী অবদান: ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষের স্কেচ (জয়নুল আবেদিন), স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধানের অলংকরণ এবং জাতীয় পতাকার নকশায় ভূমিকা (কামরুল হাসান ও জয়নুল আবেদিন)।

অধ্যায় ৩: বাংলাদেশের লোকশিল্প ও কারুশিল্প

  • লোকশিল্পের বৈচিত্র্য: নকশিকাঁথা (যশোর, ময়মনসিংহ, ফরিদপুর, রাজশাহী), টেপা পুতুল ও শখের হাঁড়ি (রাজশাহী), লক্ষ্মীসরা, হাতপাখা।
  • কারুশিল্পের গৌরব: শীতলপাটি (সিলেটের মুর্তা/পাটিবেত গাছের ছিলকা), ঢাকাই জামদানি ও তাঁতশিল্প, বাঁশ-বেত ও কাঁসা-পিতলের তৈজসপত্র।

অধ্যায় ৪: ছবি আঁকার সাধারণ নিয়ম, উপকরণ ও মাধ্যম

  • মৌলিক জ্যামিতিক রূপ: পৃথিবীর সকল দৃশ্যমান বস্তুকে তিনটি মৌলিক আকারে দেখা যায়—গোল (বৃত্ত), চার কোণা (বর্গ/আয়ত) এবং তিন কোণা (ত্রিভুজ)।
  • অনুপাত ও পার্সপেক্টিভ: কাছের জিনিস বড় ও স্পষ্ট এবং দূরের জিনিস ছোট ও অস্পষ্ট দেখানোর কৌশল।
  • আলো-ছায়া: লাইট টোন, মিডল টোন ও ডার্ক টোনের সাহায্যে সমতল দ্বিমাত্রিক কাগজে ত্রিমাত্রিক রূপ সৃষ্টি।
  • উপকরণ ও মাধ্যম: কার্ট্রিজ পেপার, গ্রাফাইট পেনসিল (HB থেকে 6B), ইজেল, ক্যানভাস, প্যালেট; স্বচ্ছ জলরং বনাম অস্বচ্ছ পোস্টার ও তেলরং; চক প্যাস্টেল বনাম মোম প্যাস্টেল এবং ফিক্সেটিভ স্প্রে।

অধ্যায় ৫: ছবি আঁকার অনুশীলন

  • রেখার শক্তি: ছবি আঁকার মূল প্রাণশক্তি রেখা (সরল রেখা ও বাঁকা রেখা)।
  • ব্যবহার্য সামগ্রী: খাড়া কেন্দ্রীয় রেখায় ভারসাম্য রেখে জগ, গ্লাস, কলস ও হাঁড়ি আঁকা।
  • ষড়ঋতুর নিসর্গ: বর্ষার মাথাল পরা কৃষক ও কালো মেঘ; শরতের কাশফুল ও সাদা মেঘের ভেলা; শীতের কুয়াশা ও খেজুরের রসের হাঁড়ি; বসন্তের রঙিন ফুল ও কোকিল।
  • নকশা ও আলপনা: জ্যামিতিক খোপে (৬" × ৬") বৃত্ত ও ত্রিভুজের পুনরাবৃত্তিতে নকশা তৈরি; উৎসবের উঠোনে আলপনা।

অধ্যায় ৬: কাগজ ও ফেলনা জিনিস দিয়ে শিল্পকর্ম

  • কাগজের কারুকাজ: রঙিন কাগজের ঝালর, নকশা কাটা ফুল, শাপলা ফুল ও বাতির শেড; ফার্মার ব্যবহার।
  • বর্জ্য শিল্প (Waste Art): হাঁসের ডিমের শক্ত খোলস ও বোর্ড কাগজের চোঙা দিয়ে পুতুল তৈরি; নুড়ি পাথরে রং করে পেঁচা/বিড়ালের ভাস্কর্য ও পেপার ওয়েট; গাছের শুকনো ডালপালার ভাস্কর্য; লবণ-পানিতে সিদ্ধ ও রঙিন পাতা দিয়ে বাঁশি, ঘড়ি ও চশমা তৈরি; ভাঙা কাপ-প্লেটের মোজাইক চিত্র।

অধ্যায় ৭: রং ও রঙের ব্যবহার

  • প্রাথমিক রং (৩টি): হলুদ, লাল ও নীল—অন্য কোনো রঙে তৈরি করা যায় না।
  • মাধ্যমিক রং (৩টি):
  • হলুদ + লাল = কমলা
  • হলুদ + নীল = সবুজ
  • লাল + নীল = বেগুনি
  • সাদা ও কালো: নিরপেক্ষ টোন; সাদা মেশালে হালকা (টিন্ট) এবং কালো মেশালে গাঢ় (শেড) হয়।
  • বিখ্যাত শিল্পকর্ম: আবেদীন কিষানের জলরঙে আঁকা 'নদীর ঘাট' এবং রং পেনসিলে আঁকা 'মিষ্টিকুমড়ার ফালি'।

📊 অধ্যায়ভিত্তিক কনটেন্ট পরিসংখ্যান ছক:

অধ্যায় নংঅধ্যায়ের নামসৃজনশীল প্রশ্ন (CQ)কুইজ (MCQ + T/F + Fill)শব্দার্থমনে রাখার তথ্য
১চারু ও কারুকলার পরিচয়৪টি৪৫টি২৫টি১৬টি
২বাংলাদেশের চারু ও কারুকলা শিক্ষার ইতিহাস৪টি৪৫টি২৫টি১৬টি
৩বাংলাদেশের লোকশিল্প ও কারুশিল্প৪টি৪৫টি২৫টি১৬টি
৪ছবি আঁকার সাধারণ নিয়ম, উপকরণ ও মাধ্যম৪টি৪৫টি২৫টি১৬টি
৫ছবি আঁকার অনুশীলন৪টি৪৫টি২৫টি১৬টি
৬কাগজ ও ফেলনা জিনিস দিয়ে শিল্পকর্ম৪টি৪৫টি২৫টি১৬টি
৭রং ও রঙের ব্যবহার৪টি৪৫টি২৫টি১৬টি
সর্বমোট৭টি অধ্যায় (সম্পূর্ণ বই)২৮টি CQ৩১৫টি কুইজ১৭৫টি১১২টি
← ডানে-বামে স্ক্রোল করে সম্পূর্ণ টেবিলটি দেখুন →

💡 শিক্ষার্থীদের জন্য চারুকলা পরীক্ষার বিশেষ পরামর্শ:

  1. ১রেখার ওপর নিয়ন্ত্রণ: যেকোনো ড্রয়িংয়ের শুরুতে হালকা HB পেনসিল দিয়ে খসড়া রেখা টানুন। কখনোই প্রথম টানেই গাড় রেখা টানবেন না।
  2. ২অনুপাত রক্ষা: প্রাকৃতিক দৃশ্য বা দৈনন্দিন জিনিস আঁকার সময় কাছের ও দূরের পরিমাপের সামঞ্জস্য বজায় রাখুন।
  3. ৩রং করার শৃঙ্খলা: জলরং করার সময় হালকা রং থেকে গাঢ় রঙের দিকে যান এবং কাগজের সাদাকে অক্ষত রেখে আলোর দ্যুতি ফুটিয়ে তুলুন।
  4. ৪সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর: জ্ঞানমূলক (ক) সঠিক এক বাক্যে, অনুধাবনমূলক (খ) স্পষ্ট দুটি প্যারায়, প্রয়োগমূলক (গ) পাঠ্যবইয়ের তথ্যের সাথে উদ্দীপক মিলিয়ে এবং উচ্চতর দক্ষতামূলক (ঘ) গভীর তুলনামূলক বিশ্লেষণে উত্তর উপস্থাপন করুন।

সম্পূর্ণ বইটি অধ্যায় ধরে ধরে পড়তে এবং প্রতিটি কুইজে অংশ নিতে ভিজিট করুন: medhabi.app/guide/cg:class_6:charu-karukola