## বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা ২০২৬: স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকুন
এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর প্রতিটি শিক্ষার্থীর জীবনের সবচেয়ে বড় মোড় হলো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU), রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (RU), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (CU), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (JU), বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (BUET) এবং সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি গুচ্ছ (GST Cluster)-ভুক্ত ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক লাখ শিক্ষার্থী স্বপ্নের ক্যাম্পাসের জন্য লড়াইয়ে নামে।
২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন ও সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত সামনে এসেছে। এই পূর্ণাঙ্গ আর্টিকেলে আমরা সকল ইউনিটের মানবণ্টন, জিপিএ শর্ত এবং চান্স পাওয়ার বাস্তবসম্মত কৌশল তুলে ধরেছি।
১. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (DU) ভর্তি পরীক্ষার ইউনিট ও মানবণ্টন
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা মোট ১২০ নম্বরে অনুষ্ঠিত হয় (পরীক্ষা ১০০ নম্বর + এসএসসি ও এইচএসসি জিপিএ ২০ নম্বর)।
| ইউনিট | অনুষদ | পরীক্ষা পদ্ধতি ও মানবণ্টন | পাস মার্কস |
|---|---|---|---|
| ক ইউনিট (বিজ্ঞান) | বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান, ফার্মেসি, ইঞ্জিনিয়ারিং | MCQ ৬০ নম্বর + লিখিত ৪০ নম্বর (পদার্থ, রসায়ন, গণিত/জীব) | উভয় অংশে পৃথকভাবে ন্যূনতম পাস আবশ্যক |
| খ ইউনিট (কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান) | কলা, আইন, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ | বাংলা (MCQ ১৫ + লিখিত ২০), ইংরেজি (MCQ ১৫ + লিখিত ২০), সাধারণ জ্ঞান (MCQ ৩০) | লিখিত অংশে ন্যূনতম ১২ নম্বর |
| গ ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা) | ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ | বাংলা, ইংরেজি, হিসাববিজ্ঞান ও ব্যবসায় নীতি (MCQ ৬০ + লিখিত ৪০) | প্রতিটি সেকশনে পৃথক কাট-মার্কস |
| চারুকলা ইউনিট | চারুকলা অনুষদ | সাধারণ জ্ঞান ৪০ নম্বর + অঙ্কন পরীক্ষা ৬০ নম্বর | অঙ্কনে ন্যূনতম উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক |
২. সমন্বিত গুচ্ছ (GST) ২৪ বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বশেষ অবস্থা
সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছে ২৪টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় একত্রে ১টি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করায়। শিক্ষার্থীদের যাতায়াত কষ্ট ও আর্থিক ভোগান্তি লাঘবে এটি যুগান্তকারী ভূমিকা রেখেছে।
- ক ইউনিট (বিজ্ঞান): পদার্থবিজ্ঞান (২০), রসায়ন (২০), গণিত/জীববিজ্ঞান (২০), বাংলা/ইংরেজি (১০)। মোট ১০০ নম্বরের MCQ পরীক্ষা (প্রতি ভুল উত্তরে ০.২৫ কাটা যায়)।
- খ ইউনিট (মানবিক): বাংলা (৩৫), ইংরেজি (৩৫), সাধারণ জ্ঞান (৩০)।
- গ ইউনিট (ব্যবসায় শিক্ষা): হিসাববিজ্ঞান (৩৫), ব্যবসায় সংগঠন ও ব্যবস্থাপনা (৩৫), বাংলা (১৫), ইংরেজি (১৫)।
- সেকেন্ড টাইম (Second Time) সুযোগ: গুচ্ছভুক্ত প্রায় সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে এবং জাবি, রাবি, চবিতে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ রয়েছে (ঢাবি ও বুয়েটে সেকেন্ড টাইম নেই)।
৩. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সরকারি ৭ কলেজ ভর্তি
ঢাকা শহরের ৭টি ঐতিহ্যবাহী সরকারি কলেজ (ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি তিতুমীর কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ ও মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজ)-এ প্রায় ২৫ হাজার স্নাতক আসনে পৃথক ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ঢাবি কর্তৃপক্ষ মেধাতালিকা প্রণয়ন করে।
৪. ভর্তি পরীক্ষায় নিশ্চিত চান্স পাওয়ার ৪টি স্বর্ণসূত্র
- ১বিগত ২০ বছরের প্রশ্ন সমাধান: বিগত বছরের প্রশ্ন হুবহু কমন না পড়লেও প্রশ্নের প্যাটার্ন ও টপিকস ৯০% রিপিট হয়। ঢাবির সকল ইউনিটের বিগত বছরের প্রশ্ন ব্যাখ্যাসহ শেষ করুন।
- ২লিখিত পরীক্ষার লেখার মান ও গতি: খ ও গ ইউনিটে যারা ফেল করে, তাদের অধিকাংশই লিখিত অংশের ফ্রি-হ্যান্ড রাইটিং ও বাক্য গঠনে ভুল করার কারণে আটকে যায়। প্রতিদিন অন্তত ২টি করে ইংরেজি ও বাংলা অনুচ্ছেদ লেখার চর্চা করুন।
- ৩নেগেটিভ মার্কিং নিয়ন্ত্রণ: ১০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৮০টি দাগিয়ে যদি ১৫টি ভুল হয়, তবে প্রকৃত নম্বর দাঁড়ায় ৬১.২৫। অথচ নিশ্চিত ৬৫টি দাগিয়ে একটিও ভুল না করলে অবস্থান মেধা তালিকার শীর্ষে থাকবে।
- ৪মেধাবী ফ্রি হ্যান্ডনোট ডাউনলোড করুন: বিশ্ববিদ্যালয়ের মানবিক ও বাণিজ্য বিভাগের প্রস্তুতিকে সহজ করতে আমাদের প্রস্তুতকৃত হ্যান্ডনোট সম্পূর্ণ ফ্রিতে সংগ্রহ করুন।
📥 [ঢাবি ও গুচ্ছ ১০০ নম্বরের মেগা হ্যান্ডনোট (PDF ডাউনলোড)](/downloads/du-b-unit-gst-humanities-handnote.pdf)
৫. প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন ১: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কি ক্যালকুলেটর ব্যবহার করা যায়? উত্তর: না, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় কোনো প্রকার ক্যালকুলেটর ব্যবহারের অনুমতি নেই। তাই হাতে হাতে দশমিক ও ভগ্নাংশের দ্রুত হিসাব করার প্র্যাকটিস করতে হবে।
প্রশ্ন ২: গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় কি ন্যূনতম কোনো পাস মার্কস আছে? উত্তর: হ্যাঁ, ১০০ নম্বরের মধ্যে সাধারণত ন্যূনতম ৩০ নম্বর পেলে পাস হিসেবে গণ্য করা হয় এবং মেধাতালিকায় স্থান মেলে।