সিলেট জেলা(Sylhet)
চা বাগান, পাহাড়ি নদী, স্বচ্ছ পানির পাথর আর হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের জন্য বিখ্যাত।
ভৌগোলিক সীমানা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
নামকরণের ইতিহাস
প্রাচীন নাম শ্রীহট্ট, অর্থাৎ সমৃদ্ধ হাট। আরেকটি মত হলো 'শিল' (পাথর) আর 'হাট' মিলে শিলহট, যা থেকে সিলেট।
চারদিকের ভৌগোলিক সীমানা
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
সেক্টর ৪ ও ৫১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে সিলেট জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেক্টর ৪ ও ৫-এর অধীনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর ও গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
সিলেট জেলা কেন বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বিশেষত্ব
আধ্যাত্মিক রাজধানী খ্যাত হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহ পরাণ (রহ.)-এর পুণ্য দরগাহ
জাফলং পাথুরে নদী, বিছনাকান্দি ও পান্তুমাই জলপ্রপাত
রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট (বাংলাদেশের একমাত্র স্বাদুপানির মিঠাপুকুর জলাবন)
ঐতিহ্যবাহী মালনীছড়া চা বাগান (উপমহাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান, ১৮৫৪)
শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাব (অবস্থান ও ক্যাম্পাস)
- শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (SUST)ক্যাম্পাস: সিলেট সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (SAU)ক্যাম্পাস: সিলেট সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ক্যাম্পাস: সিলেট সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ (SOMC)অবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, সিলেট
- জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজঅবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, সিলেট
- সরকারি মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ (১৮৯২)অবস্থান: কলেজ রোড, সিলেট
- সিলেট সরকারি মহিলা কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, সিলেট
- সিলেট সরকারি কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, সিলেট
- সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৩৬)অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, সিলেট
- সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (১৯০৩)অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, সিলেট
জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ডিরেক্টরি
পূর্ণ ঠিকানা: কালেক্টরেট ভবন ও জেলা প্রশাসন চত্বর, সিলেট সদর
ই-সেবাকেন্দ্র ও ফ্রন্টডেস্ক সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত
পূর্ণ ঠিকানা: পুলিশ লাইনস ও এসপি কার্যালয় রোড, সিলেট
পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও জরুরি ডিউটি অফিসার ২৪ ঘণ্টা সচল
পূর্ণ ঠিকানা: সদর হাসপাতাল রোড, সিলেট সদর
জরুরি বিভাগ (Emergency) ও অ্যাম্বুলেন্স ২৪/৭ সেবা
পূর্ণ ঠিকানা: জজ কোর্ট চত্বর, আদালত রোড, সিলেট সদর
সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) ও ফৌজদারি-দেওয়ানি আদালত ভবন।
পূর্ণ ঠিকানা: আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবন, সিলেট সদর
ই-পাসপোর্ট আবেদন, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও পাসপোর্ট বিতরণ।
পূর্ণ ঠিকানা: ফায়ার স্টেশন রোড, সিলেট সদর
অগ্নিনির্বাপণ, নদী ও সড়ক দুর্ঘটনা উদ্ধারকারী স্পেশাল টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত।
পূর্ণ ঠিকানা: জেলা পরিষদ ভবন, সিলেট সদর
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিচালনা।
আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি সার্কিট হাউস গাইড
ঠিকানা: সার্কিট হাউস রোড, কালেক্টরেট চত্বর সংলগ্ন, সিলেট সদর।
ভাড়া: ৳৪০০ - ৳৮০০ (অনুমোদন সাপেক্ষে)
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে বুকিং নিতে হয়।
ঠিকানা: কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, স্টেশন রোড ও শহরের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
ভাড়া: ৳১,২০০ - ৳৩,০০০ / রাত
এসি/নন-এসি রুম, ২৪/৭ জেনারেটর ব্যাকআপ, ওয়াইফাই ও লিফট সুবিধা।
ঠিকানা: নদী তীরবর্তী এলাকা, বনভূমি সংলগ্ন বা প্রধান পর্যটন স্পট রোড।
ভাড়া: ৳২,০০০ - ৳৫,৫০০ / রাত
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (BPC) মোটেল ও প্রাইভেট ইকো-রিসোর্ট।
ঠিকানা: পুরাতন বাজার মোড়, জেলা পরিষদ চত্বর ও লঞ্চঘাট/স্টেশন সংলগ্ন।
ভাড়া: ৳৫০০ - ৳১,০০০ / রাত
একক পর্যটক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।
ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত খাবার ও জিআই পণ্য
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাতকড়া গরুর মাংস, আখনী পোলাও ও বখত আলীর বাখরখানি
প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ (8টি) ও পৌঁছানোর রুট
রাতারগুল জলাবন
দেশের একমাত্র মিঠাপানির জলাবন; বর্ষায় নৌকায় গাছের ফাঁকে ঘোরা।
যাওয়ার উপায়: গোয়াইনঘাটে; সিলেট শহর থেকে সিএনজিতে প্রায় ২৬ কিমি, তারপর নৌকা।
সেরা সময়: জুলাই–অক্টোবর (বর্ষায় বন পানিতে ডোবা থাকে)
প্রবেশ ফি / খরচ: ডিঙি নৌকা ৮০০–১,৫০০৳ (৪–৫ জন); সিলেট থেকে সিএনজি রিজার্ভ ১,৫০০–২,০০০৳
জাফলং
ভারতের মেঘালয় পাহাড়ের নিচে পিয়াইন নদী, পাথর আর স্বচ্ছ পানি; পাশে খাসিয়া পুঞ্জি।
যাওয়ার উপায়: সিলেট শহর থেকে প্রায় ৬০ কিমি; বাস বা সিএনজি।
সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ (পানি স্বচ্ছ); বর্ষায় ঝর্ণা বেশি কিন্তু পানি ঘোলা
প্রবেশ ফি / খরচ: সিলেট থেকে সিএনজি রিজার্ভ ২,০০০–৩,০০০৳; নৌকায় জিরো পয়েন্ট ৫০০–৮০০৳
বিছনাকান্দি
পাহাড় থেকে নামা স্বচ্ছ পানি আর বিছানো পাথর; বর্ষা ও শরতে সবচেয়ে সুন্দর।
যাওয়ার উপায়: সিলেট থেকে হাদারপাড় বাজার, তারপর নৌকায়।
সেরা সময়: জুন–অক্টোবর
প্রবেশ ফি / খরচ: হাদারপাড় থেকে নৌকা ১,০০০–১,৫০০৳ (যাওয়া-আসা); সিএনজি রিজার্ভ ১,৫০০–২,০০০৳
লালাখাল
নীল-সবুজ পানির নদী আর চা বাগান; নৌকায় ঘোরা।
যাওয়ার উপায়: জৈন্তাপুরে; সিলেট-তামাবিল সড়কে সারিঘাট থেকে নৌকা।
সেরা সময়: নভেম্বর–এপ্রিল (পানি সবচেয়ে নীল)
প্রবেশ ফি / খরচ: সারিঘাট থেকে নৌকা ১,২০০–২,০০০৳ (যাওয়া-আসা)
সাদা পাথর, ভোলাগঞ্জ
ধলাই নদীর মুখে সাদা পাথর আর পাহাড় থেকে নামা ঠান্ডা স্বচ্ছ পানি।
যাওয়ার উপায়: কোম্পানীগঞ্জে; সিলেট থেকে প্রায় ৩৫ কিমি, তারপর নৌকা।
সেরা সময়: জুন–অক্টোবর
প্রবেশ ফি / খরচ: সিএনজি রিজার্ভ ১,৫০০–২,০০০৳; ১০ নম্বর ঘাট থেকে নৌকা ৮০০–১,০০০৳
হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার
দেশের অন্যতম প্রধান আধ্যাত্মিক তীর্থস্থান।
যাওয়ার উপায়: সিলেট শহরের দরগাহ গেটে।
সেরা সময়: সারা বছর; উরসের সময় প্রচণ্ড ভিড়
প্রবেশ ফি / খরচ: বিনামূল্যে
মালনীছড়া চা বাগান
উপমহাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক চা বাগান (১৮৫৪)।
যাওয়ার উপায়: বিমানবন্দর সড়কে, শহর থেকে প্রায় ৫ কিমি।
সেরা সময়: মার্চ–নভেম্বর (পাতা তোলার মৌসুম)
প্রবেশ ফি / খরচ: বিনামূল্যে (ভেতরে প্রবেশে অনুমতি লাগতে পারে)
পান্থুমাই ঝর্ণা
মেঘালয়ের পাহাড় থেকে নামা বড় ঝর্ণা, নদী থেকে দেখা যায়।
যাওয়ার উপায়: গোয়াইনঘাটের পান্থুমাই গ্রামে; নৌকায়।
সেরা সময়: জুন–সেপ্টেম্বর
প্রবেশ ফি / খরচ: নৌকা ভাড়া বিছনাকান্দির প্যাকেজের সাথে ৫০০–১,০০০৳ অতিরিক্ত
ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সিলেট যাওয়ার রুট গাইড
ঢাকা (গাবতলী, মহাখালী বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল) থেকে সিলেট সদরের উদ্দেশ্যে দিন-রাত নিয়মিত নন-এসি ও এসি বাস চলাচল করে।
কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি বা নিকটস্থ রেলওয়ে জংশনে আরামদায়ক যাত্রা করা যায়।
জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি, হাইস বা রেন্ট-এ-কারে পরিবারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুত সরাসরি পৌঁছানো যায়।
আন্তঃজেলা দূরত্ব ও ভ্রমণ খরচ ক্যালকুলেটর
বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে কত খরচ ও কত সময় লাগবে এক ক্লিকে জানুন
ঢাকা থেকে সিলেট সড়কপথের আনুমানিক দূরত্ব।
যানজট ও যাত্রাবিরতি সহ বাসে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়কাল।
নন-এসি: ৳574 | এসি: ৳975 (জনপ্রতি)।
বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তঃনগর শোভন চেয়ারের সম্ভাব্য ভাড়া।
সিলেট জেলায় কোথায় থাকবেন ও সম্ভাব্য খরচ
খরচ: জনপ্রতি দিনে ২,০০০–৪,০০০৳; জাফলং-বিছনাকান্দি যেতে সিএনজি/লেগুনা রিজার্ভরোজ ভিউ হোটেল • নির্ভানা ইন • গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট • দরগাহ গেট ও জিন্দাবাজারে মাঝারি মানের হোটেল (৳১,৫০০–৩,৫০০)
বিসিএস ও এডমিশন সাধারণ জ্ঞান (GK) প্রশ্নোত্তর
সিলেট জেলা বাংলাদেশের কোন বিভাগে অবস্থিত?
সিলেট বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক জেলা।
সিলেট জেলার ভৌগোলিক সীমানায় উত্তরে কোন অঞ্চল রয়েছে?
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী সিলেট জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য অবস্থিত।
সিলেট জেলার প্রধান নদ-নদী কোনগুলো?
এসব নদী সিলেট জেলার কৃষি, পলি ও মৎস্য সম্পদের মূল ভিত্তি।
সিলেট জেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই অঞ্চল সেক্টর ৪ ও ৫-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
সিলেট জেলার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিশেষত্ব কী?
দেশজুড়ে খাদ্যরসিক ও পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষভাবে সুপরিচিত।
সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলাসমূহ
৬৪ জেলার সম্পূর্ণ ইন্টারঅ্যাক্টিভ মানচিত্র এক্সপ্লোর করুন
আপনার ভ্রমণ করা জেলাগুলো সিলেক্ট করে নিজের রঙিন ট্রাভেল ম্যাপ ডাউনলোড করুন এবং বাকি জেলাগুলোর তথ্য দেখুন।