মৌলভীবাজার জেলা(Moulvibazar)
চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল; চা বাগান, রেইনফরেস্ট আর ঝর্ণার জেলা।
ভৌগোলিক সীমানা ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
নামকরণের ইতিহাস
১৮১০ সালে মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ মনু নদীর তীরে একটি বাজার প্রতিষ্ঠা করেন। মৌলভী সাহেবের বাজার থেকেই নাম হয় মৌলভীবাজার।
চারদিকের ভৌগোলিক সীমানা
মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা সংগ্রাম
সেক্টর ৪১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে মৌলভীবাজার জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা সেক্টর ৪-এর অধীনে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে সম্মুখ সমর ও গেরিলা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
ঐতিহাসিক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
মৌলভীবাজার জেলা কেন বিখ্যাত ও ঐতিহাসিক বিশেষত্ব
বাংলাদেশের চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল (দেশের সর্বাধিক চা বাগানের স্বর্গরাজ্য)
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান (বিরল উলুক বানর ও ঘন চিরহরিৎ রেইনফরেস্ট)
মাধবকুণ্ড ও হামহাম জলপ্রপাত (প্রাকৃতিক পাথুরে পাহাড়ি ঝরনা)
নীলকণ্ঠ চা কেবিনের বিশ্ববিখ্যাত সাত রঙের চা ও হাকালুকি হাওরের সুবিশাল জলরাশি
শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাব (অবস্থান ও ক্যাম্পাস)
- মৌলভীবাজার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (প্রস্তাবিত)ক্যাম্পাস: মৌলভীবাজার সদর ও সংলগ্ন এলাকা
- মৌলভীবাজার মেডিকেল কলেজ (প্রস্তাবিত/সদর ২৫০ শয্যা সংলগ্ন)অবস্থান: হাসপাতাল রোড / মেডিকেল চত্বর, মৌলভীবাজার
- মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ (১৯৫৬)অবস্থান: কলেজ রোড, মৌলভীবাজার
- মৌলভীবাজার সরকারি মহিলা কলেজঅবস্থান: কলেজ রোড, মৌলভীবাজার
- মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় (১৮৯১)অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, মৌলভীবাজার
- আলী আমজাদ সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়অবস্থান: স্কুল মোড় / জেলা সদর, মৌলভীবাজার
জেলা প্রশাসন, সরকারি দপ্তর ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ডিরেক্টরি
পূর্ণ ঠিকানা: কালেক্টরেট ভবন ও জেলা প্রশাসন চত্বর, মৌলভীবাজার সদর
ই-সেবাকেন্দ্র ও ফ্রন্টডেস্ক সার্বক্ষণিক উন্মুক্ত
পূর্ণ ঠিকানা: পুলিশ লাইনস ও এসপি কার্যালয় রোড, মৌলভীবাজার
পুলিশ কন্ট্রোল রুম ও জরুরি ডিউটি অফিসার ২৪ ঘণ্টা সচল
পূর্ণ ঠিকানা: সদর হাসপাতাল রোড, মৌলভীবাজার সদর
জরুরি বিভাগ (Emergency) ও অ্যাম্বুলেন্স ২৪/৭ সেবা
পূর্ণ ঠিকানা: জজ কোর্ট চত্বর, আদালত রোড, মৌলভীবাজার সদর
সরকারি আইনি সহায়তা (লিগ্যাল এইড) ও ফৌজদারি-দেওয়ানি আদালত ভবন।
পূর্ণ ঠিকানা: আঞ্চলিক পাসপোর্ট ভবন, মৌলভীবাজার সদর
ই-পাসপোর্ট আবেদন, বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট ও পাসপোর্ট বিতরণ।
পূর্ণ ঠিকানা: ফায়ার স্টেশন রোড, মৌলভীবাজার সদর
অগ্নিনির্বাপণ, নদী ও সড়ক দুর্ঘটনা উদ্ধারকারী স্পেশাল টিম ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত।
পূর্ণ ঠিকানা: জেলা পরিষদ ভবন, মৌলভীবাজার সদর
গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক কল্যাণ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো পরিচালনা।
আবাসিক হোটেল, রিসোর্ট ও সরকারি সার্কিট হাউস গাইড
ঠিকানা: সার্কিট হাউস রোড, কালেক্টরেট চত্বর সংলগ্ন, মৌলভীবাজার সদর।
ভাড়া: ৳৪০০ - ৳৮০০ (অনুমোদন সাপেক্ষে)
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নেজারত শাখা থেকে বুকিং নিতে হয়।
ঠিকানা: কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল, স্টেশন রোড ও শহরের মূল বাণিজ্যিক কেন্দ্র।
ভাড়া: ৳১,২০০ - ৳৩,০০০ / রাত
এসি/নন-এসি রুম, ২৪/৭ জেনারেটর ব্যাকআপ, ওয়াইফাই ও লিফট সুবিধা।
ঠিকানা: নদী তীরবর্তী এলাকা, বনভূমি সংলগ্ন বা প্রধান পর্যটন স্পট রোড।
ভাড়া: ৳২,০০০ - ৳৫,৫০০ / রাত
বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন (BPC) মোটেল ও প্রাইভেট ইকো-রিসোর্ট।
ঠিকানা: পুরাতন বাজার মোড়, জেলা পরিষদ চত্বর ও লঞ্চঘাট/স্টেশন সংলগ্ন।
ভাড়া: ৳৫০০ - ৳১,০০০ / রাত
একক পর্যটক ও ছাত্রছাত্রীদের জন্য সাশ্রয়ী থাকার ব্যবস্থা।
ঐতিহ্যবাহী বিখ্যাত খাবার ও জিআই পণ্য
শ্রীমঙ্গলের বিখ্যাত সাত রঙের চা, মনিপুরী ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সাতকড়া আচার
প্রধান দর্শনীয় স্থানসমূহ (7টি) ও পৌঁছানোর রুট
লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান
চিরসবুজ রেইনফরেস্ট; উল্লুক (গিবন), বানর আর বনের ভেতর দিয়ে রেললাইন।
যাওয়ার উপায়: শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ৮ কিমি; সিএনজিতে।
সেরা সময়: অক্টোবর–মার্চ; ভোরে প্রাণী দেখার সম্ভাবনা বেশি
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি; গাইড ৫০০–১,০০০৳ (ট্রেইল অনুযায়ী)
শ্রীমঙ্গলের চা বাগান
দিগন্তজোড়া সবুজ চা বাগান, চা জাদুঘর আর চা শ্রমিকদের জীবন।
যাওয়ার উপায়: শ্রীমঙ্গল শহরের চারপাশে; সাইকেল বা সিএনজিতে ঘোরা যায়।
সেরা সময়: মার্চ–নভেম্বর (সবুজ পাতা তোলার মৌসুম)
প্রবেশ ফি / খরচ: সাইকেল/সিএনজিতে ঘোরা দিনে ১,০০০–২,০০০৳; সাত রঙের চা প্রতি কাপ ৭০–১০০৳
মাধবকুণ্ড জলপ্রপাত
প্রায় ২০০ ফুট উঁচু থেকে পড়া দেশের সবচেয়ে পরিচিত জলপ্রপাত।
যাওয়ার উপায়: বড়লেখা উপজেলায়; মৌলভীবাজার থেকে প্রায় ৭০ কিমি।
সেরা সময়: জুন–অক্টোবর
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি; মৌলভীবাজার থেকে সিএনজি রিজার্ভ ১,৮০০–২,৫০০৳
মাধবপুর লেক
চা বাগানের টিলার মাঝে লেক, গ্রীষ্মে নীল পদ্ম ফোটে।
যাওয়ার উপায়: কমলগঞ্জে; শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ২০ কিমি।
সেরা সময়: মে–অক্টোবর
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি
হামহাম জলপ্রপাত
রাজকান্দি বনের গভীরে ঝর্ণা; অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য।
যাওয়ার উপায়: কমলগঞ্জের কলাবন পাড়া থেকে গাইডসহ ৩–৪ ঘণ্টা ট্রেক।
সেরা সময়: জুন–সেপ্টেম্বর (পানি বেশি, তবে পথ কাদাময়)
প্রবেশ ফি / খরচ: গাইড ৮০০–১,৫০০৳; শ্রীমঙ্গল থেকে জিপ রিজার্ভ ৩,০০০–৪,০০০৳
বাইক্কা বিল
হাইল হাওরের অভয়াশ্রম; শীতে পরিযায়ী পাখি দেখার ওয়াচ টাওয়ার।
যাওয়ার উপায়: শ্রীমঙ্গল থেকে প্রায় ১৫ কিমি।
সেরা সময়: ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি
প্রবেশ ফি / খরচ: সামান্য প্রবেশ ফি
হাকালুকি হাওর
দেশের সবচেয়ে বড় হাওরগুলোর একটি; শীতে লাখো পাখি।
যাওয়ার উপায়: বড়লেখা-কুলাউড়া এলাকায়; নৌকায় ঘোরা।
সেরা সময়: ডিসেম্বর–ফেব্রুয়ারি (পাখি); আগস্ট–অক্টোবর (বর্ষা)
প্রবেশ ফি / খরচ: নৌকা দিনে ২,০০০–৪,০০০৳
ঢাকা ও দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে মৌলভীবাজার যাওয়ার রুট গাইড
ঢাকা (গাবতলী, মহাখালী বা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল) থেকে মৌলভীবাজার সদরের উদ্দেশ্যে দিন-রাত নিয়মিত নন-এসি ও এসি বাস চলাচল করে।
কমলাপুর ও ঢাকা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে আন্তঃনগর এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি বা নিকটস্থ রেলওয়ে জংশনে আরামদায়ক যাত্রা করা যায়।
জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করে ব্যক্তিগত গাড়ি, হাইস বা রেন্ট-এ-কারে পরিবারের সাথে নিরাপদ ও দ্রুত সরাসরি পৌঁছানো যায়।
আন্তঃজেলা দূরত্ব ও ভ্রমণ খরচ ক্যালকুলেটর
বাংলাদেশের যেকোনো জেলা থেকে অন্য জেলায় যেতে কত খরচ ও কত সময় লাগবে এক ক্লিকে জানুন
ঢাকা থেকে মৌলভীবাজার সড়কপথের আনুমানিক দূরত্ব।
যানজট ও যাত্রাবিরতি সহ বাসে সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়কাল।
নন-এসি: ৳473 | এসি: ৳803 (জনপ্রতি)।
বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তঃনগর শোভন চেয়ারের সম্ভাব্য ভাড়া।
মৌলভীবাজার জেলায় কোথায় থাকবেন ও সম্ভাব্য খরচ
খরচ: জনপ্রতি দিনে ২,০০০–৫,০০০৳ (রিসোর্ট অনুযায়ী)গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট অ্যান্ড গলফ (বিলাসবহুল) • দুসাই রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা • বিটিআরআই/পর্যটনের টি রিসোর্ট • শ্রীমঙ্গলে অনেক কটেজ ও গেস্টহাউস (৳১,৫০০–৪,০০০)
বিসিএস ও এডমিশন সাধারণ জ্ঞান (GK) প্রশ্নোত্তর
মৌলভীবাজার জেলা বাংলাদেশের কোন বিভাগে অবস্থিত?
মৌলভীবাজার বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের অন্যতম প্রধান প্রশাসনিক ও সাংস্কৃতিক জেলা।
মৌলভীবাজার জেলার ভৌগোলিক সীমানায় উত্তরে কোন অঞ্চল রয়েছে?
ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী মৌলভীবাজার জেলার উত্তরে সিলেট জেলা অবস্থিত।
মৌলভীবাজার জেলার প্রধান নদ-নদী কোনগুলো?
এসব নদী মৌলভীবাজার জেলার কৃষি, পলি ও মৎস্য সম্পদের মূল ভিত্তি।
মৌলভীবাজার জেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন কোন সেক্টরের অধীনে ছিল?
১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে এই অঞ্চল সেক্টর ৪-এর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
মৌলভীবাজার জেলার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী খাবার ও বিশেষত্ব কী?
দেশজুড়ে খাদ্যরসিক ও পর্যটকদের কাছে এটি বিশেষভাবে সুপরিচিত।
সিলেট বিভাগের অন্যান্য জেলাসমূহ
৬৪ জেলার সম্পূর্ণ ইন্টারঅ্যাক্টিভ মানচিত্র এক্সপ্লোর করুন
আপনার ভ্রমণ করা জেলাগুলো সিলেক্ট করে নিজের রঙিন ট্রাভেল ম্যাপ ডাউনলোড করুন এবং বাকি জেলাগুলোর তথ্য দেখুন।