হিন্দুধর্ম শিক্ষা• অধ্যায় ১

প্রথম অধ্যায়: স্রষ্টা ও সৃষ্টি

ষষ্ঠ শ্রেণিহিন্দুধর্ম শিক্ষাঅধ্যায় ১✓ ফ্রি ডেমো

প্রথম অধ্যায়: স্রষ্টা ও সৃষ্টি

মূল পাঠ্যবই (PDF)

অধ্যায় চেকপয়েন্ট ও পাঠ অগ্রগতি০/১০ সম্পন্ন

চেকপয়েন্টে ক্লিক করে সরাসরি ঐ অংশে পড়ুন এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন

সামগ্রিক পাঠ সমাপ্তি০%
১
চেকপয়েন্ট ১ / ১০
ভূমিকা ও মূল বিষয়বস্তু

### প্রথম অধ্যায়: স্রষ্টা ও সৃষ্টি — পূর্ণাঙ্গ সারসংক্ষেপ

চেকপয়েন্ট ১ এর ১০
মনে রাখার মতো তথ্য
১মহাবিশ্ব এবং মহাবিশ্বের দৃশ্য-অদৃশ্য সকল কিছুর একমাত্র পরম সৃষ্টিকর্তা হলেন ঈশ্বর।
২মানুষ প্রকৃতির উপাদান ব্যবহার করে বস্তু বানাতে পারে, কিন্তু মূল উপাদান সৃষ্টির ক্ষমতা কেবল ঈশ্বরের।
৩হিন্দুধর্মে ঈশ্বরের প্রধান প্রধান নাম হলো ব্রহ্ম, পরমাত্মা, ভগবান ও পরমেশ্বর।
৪জীবদেহে অবস্থানকারী আত্মাই হলো জীবাত্মা, যা মূলত পরমাত্মারই অবিচ্ছেদ্য অংশ।
৫ঈশ্বর কোনো অভাব বা প্রয়োজনে নয়, কেবল নিজের পরম আনন্দের জন্য বিশ্ব সৃষ্টি করেছেন; একে ঈশ্বরের লীলা বলা হয়।
৬স্রষ্টা ঈশ্বর অনাদি ও অনন্ত; পক্ষান্তরে তাঁর সৃষ্টির আদি ও অন্ত (জন্ম ও মৃত্যু) রয়েছে।
৭জীবের মধ্যে ঈশ্বর অবস্থান করেন বলেই জীবদেহের প্রাণ ও জীবনীশক্তি সচল থাকে।
৮স্বামী বিবেকানন্দের বিখ্যাত বাণী: 'জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর'।
৯শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় আত্মাকে অবিনশ্বর বলা হয়েছে এবং দেহের রূপান্তরকে বস্ত্র পরিবর্তনের সাথে তুলনা করা হয়েছে।
১০যজুর্বেদের শান্তি পাঠের মন্ত্রটিতে ঈশ্বরকে নিরাকার ও সাকার উভয় রূপের ধারক এবং সর্বশক্তিমান বলা হয়েছে।
১১বেদ ও উপনিষদের কবিতাসমূহকে 'মন্ত্র' এবং পরবর্তী সংস্কৃত ধর্মগ্রন্থের পদ্যসমূহকে 'শ্লোক' বলা হয়।
১২দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের জন্য নিরাকার ঈশ্বর বামন, নৃসিংহ, রাম ও কৃষ্ণরূপে পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়েছেন।
১৩সকল জীবের প্রতি মমতা ও ভালোবাসাই হলো হিন্দুধর্মের মৌলিক নৈতিক ভিত্তি ও পরম ধর্ম।
শব্দার্থ ও টীকা
স্রষ্টা

যিনি নিখিল বিশ্বব্রহ্মাণ্ড ও সমস্ত জীব সৃষ্টি করেছেন; সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর

সৃষ্টি

স্রষ্টা কর্তৃক নির্মিত এই চরাচর বিশ্বজগৎ, প্রকৃতি ও জীবকুল

ব্রহ্ম

সর্বব্যাপী, অনাদি, অনন্ত ও পরম চৈতন্যময় একমাত্র ঈশ্বর

পরমাত্মা

সমগ্র সৃষ্টির পরম মূল কারণ এবং সর্বব্যাপী পরমেশ্বর সত্তা

জীবাত্মা

পরমাত্মার যে অংশ জীবদেহে প্রাণ ও চৈতন্যরূপে বাস করে

নিরাকার

যার কোনো নির্দিষ্ট পার্থিব রূপ, চেহারা বা আকার নেই

সাকার

যার নির্দিষ্ট রূপ বা আকার বিদ্যমান (স + আকার)

লীলা

ঈশ্বর কোনো প্রয়োজনে নয়, নিজের নিখাদ আনন্দের জন্য যে জগৎ সৃষ্টি ও পরিচালনা করেন

অনাদি

যার কোনো শুরু বা উৎপত্তিকাল নেই; চিরন্তন

অনন্ত

যার কোনো শেষ বা বিনাশ নেই; চিরস্থায়ী

জীবসেবা

সকল প্রাণীর প্রতি দয়া প্রদর্শন ও সেবা করা, যা ঈশ্বরের প্রত্যক্ষ সেবার সমতুল্য

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা

মহাভারতের ভীষ্মপর্বের অন্তর্গত হিন্দুদের পরম পবিত্র নীতি ও দর্শন গ্রন্থ

মন্ত্র

বেদ ও উপনিষদের ছন্দোবদ্ধ পবিত্র আধ্যাত্মিক স্তোত্র বা বাক্য

শ্লোক

বৈদিক পরবর্তী যুগে পৌরাণিক ও সংস্কৃত ধর্মগ্রন্থে রচিত ছন্দোবদ্ধ পদ্য

নমস্তে

নমঃ + তে; অর্থাৎ আপনাকে বা ঈশ্বরকে প্রণাম জানাই

সর্বশক্তিমতে

যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী বা সর্বশক্তিমান

স্বেচ্ছারূপং

ঈশ্বর ভক্তের ডাকে সাড়া দিয়ে নিজের ইচ্ছায় যে রূপ পরিগ্রহ করেন

অবতার

দুষ্টের বিনাশ ও ধর্মরক্ষায় ঈশ্বরের সাকার রূপে ধরাধামে অবতীর্ণ হওয়া

যজুর্বেদ

চারটি প্রধান বেদের দ্বিতীয় বেদ, যা যজ্ঞ ও পূজার নির্দেশনাসমৃদ্ধ

চৈতন্য

জ্ঞান, বোধশক্তি ও জীবের ভেতরের সক্রিয় সজীব সত্তা

পরমেশ্বর

পরম + ঈশ্বর; সকল সৃষ্টির একমাত্র পরম প্রভু ও শাসক

শিষ্ট

সৎ, ধার্মিক ও বিনয়ী সজ্জন ব্যক্তি

শান্তি পাঠ

বিশ্বের সকল জীবের শান্তি কামনায় বেদের অংশবিশেষের পবিত্র আবৃত্তি

স্থুল দেহ

পঞ্চভূতে গঠিত নশ্বর পার্থিব শরীর যা মৃত্যুর পর বিনষ্ট হয়

বইয়ের অনুশীলনীর উত্তর

অনুশীলনীর প্রশ্নগুলো সবার জন্য খোলা — পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন নিন

সাবস্ক্রিপশন নিন

ফ্রিতে উত্তর দেখতে চান?

১টি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখলেই এই অধ্যায়ের সমস্ত উত্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ফ্রি আনলক হবে!

প্রশ্ন ১১. নিরাকার ঈশ্বরকে কীভাবে উপলব্ধি করা যায়? পাঠ্যবইয়ের আলোকে বিশদ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

প্রশ্ন ২২. আমরা কেন পরম শ্রদ্ধার সাথে ঈশ্বরের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করব? বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

প্রশ্ন ৩৩. স্রষ্টা ও সৃষ্টির মধ্যকার সম্পর্ক উদাহরণসহ বিশদভাবে আলোচনা করো।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

প্রশ্ন ৪৪. 'জীবে প্রেম করে যেইজন, সেইজন সেবিছে ঈশ্বর' — স্বামী বিবেকানন্দের এই অমর উক্তিটির তাৎপর্য বিশ্লেষণ করো।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

উদ্দীপক আর প্রশ্ন সবার জন্য খোলা — পূর্ণ উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন নিন

সাবস্ক্রিপশন নিন

ফ্রিতে সৃজনশীলের উত্তর পড়তে চান?

১টি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখলেই এই অধ্যায়ের সমস্ত সৃজনশীল সমাধান আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ফ্রি আনলক হবে!

সৃজনশীল প্রশ্ন ১১০ নম্বর
NCTB পাঠ্যবইয়ের নমুনা সৃজনশীল প্রশ্ন উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

সজীব প্রকৃতির নানা উপাদানের মধ্যে পরম সৃষ্টিকর্তার উপস্থিতি গভীরভাবে অনুভব করে। সে গাছপালা, পশুপাখির যত্ন নেয় এবং সকল প্রাণীকে ভালোবাসে। অন্যদিকে তার ভাই তুষার সারাক্ষণ কেবল বিজ্ঞান ও কম্পিউটার নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তার ধারণা, জগতের সবকিছুই বিজ্ঞানের আবিষ্কার এবং প্রকৃতির ওপর কোনো ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণ নেই। সজীব তাকে বোঝায় যে, বিজ্ঞানের বহু আবিষ্কার থাকলেও মূল প্রকৃতি ও প্রাণশক্তির উৎস একমাত্র পরমেশ্বর।

ক

মন্ত্র কাকে বলে?জ্ঞানমূলক — ১

খ

জীবাত্মাকে কিসের অংশ বলা হয়? ব্যাখ্যা করো।অনুধাবনমূলক — ২

গ

"স্রষ্টা ও সৃষ্টি" সম্পর্কে তুষারের ধারণা পাঠ্যবইয়ের আলোকে কীভাবে খণ্ডন করা যায়? আলোচনা করো।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

প্রকৃতি সম্পর্কে সজীবের দৃষ্টিভঙ্গি পাঠ্যপুস্তকের জীবসেবা ও ঈশ্বর দর্শনের আলোকে বিশ্লেষণ করো।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ২১০ নম্বর
মেধাবী গবেষণা সেল (বোর্ড মানসম্মত সৃজনশীল) উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

অনিকের বাবা একজন দক্ষ ভাস্কর। তিনি পাথর ও মাটি খোদাই করে দেব-দেবীর অপরূপ প্রতিমা নির্মাণ করেন। অনিক ভাবল, বাবা তো প্রতিমা বানাতে পারেন, তাহলে বাবাই তো প্রতিমার স্রষ্টা। অনিকের ঠাকুরমা তাকে বুঝিয়ে বললেন, “বাবা রূপ দিতে পারেন ঠিকই, কিন্তু যে মাটি বা পাথর দিয়ে প্রতিমা তৈরি হলো তা তোমার বাবা সৃষ্টি করতে পারেননি; তা সৃষ্টি করেছেন ভগবান। আবার প্রতিমায় যখন প্রাণ প্রতিষ্ঠা করে অন্তরে ভগবানের সান্নিধ্য অনুভব করা হয়, তখনই তিনি সাকার রূপে ভক্তের ডাকে সাড়া দেন।”

ক

ঈশ্বরের আনন্দের জন্য সৃষ্টি করার কর্মকে কী বলা হয়?জ্ঞানমূলক — ১

খ

"স্রষ্টা অনাদি ও অনন্ত" — চরণটির অর্থ বুঝিয়ে লেখো।অনুধাবনমূলক — ২

গ

অনিকের বাবার ভাস্কর্য সৃষ্টির সাথে পরম স্রষ্টার সৃষ্টির পার্থক্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

ঠাকুরমার বক্তব্যের আলোকে নিরাকার ঈশ্বরের সাকার রূপ ধারণের তাৎপর্য মূল্যায়ন করো।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩১০ নম্বর
মেধাবী গবেষণা সেল (বোর্ড মানসম্মত সৃজনশীল) উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

রমেশবাবু প্রতিদিন ভোরে উঠে মন্দিরে গিয়ে পূজা দেন ও পুরোহিতকে প্রচুর অর্থ দান করেন। কিন্তু তাঁর বাড়ির পাশের এক দরিদ্র প্রতিবেশী চিকিৎসার অভাবে অনাহারে কষ্ট পেলেও তিনি তার কোনো খোঁজ নেন না। একদিন তাঁর ছোট মেয়ে অনু একটি রক্তাক্ত আহত পাখিকে রাস্তা থেকে তুলে এনে পরম যত্নে সেবা করে সুস্থ করে তুলল। রমেশবাবু অনুকে বকা দিয়ে বললেন, “অশৌচ পাখি ঘরে এনে অপবিত্র করেছিস।” অনু শান্তভাবে বলল, “বাবা, ঠাকুরঘরে যেমন ভগবান আছেন, এই অসহায় পাখির প্রাণেও কি ভগবান বাস করেন না?”

ক

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় আত্মাকে দেহের কিসের পরিবর্তনের সাথে তুলনা করা হয়েছে?জ্ঞানমূলক — ১

খ

জীবদেহে আত্মার উপস্থিতির গুরুত্ব কী? সংক্ষেপে লেখো।অনুধাবনমূলক — ২

গ

রমেশবাবুর আচরণের ত্রুটি পাঠ্যবইয়ের ৩ নম্বর পাঠের আলোকে তুলে ধরো।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

“এই অসহায় পাখির প্রাণেও কি ভগবান বাস করেন না?” — অনুর এই অনুভূতির যৌক্তিকতা স্বামী বিবেকানন্দের বাণীর আলোকে মূল্যায়ন করো।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪১০ নম্বর
মেধাবী গবেষণা সেল (বোর্ড মানসম্মত সৃজনশীল) উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

দীপ্ত ও অর্পিতা দুই ভাইবোন যজুর্বেদের শান্তি পাঠ আবৃত্তি করছিল: “নমস্তে পরমং ব্রহ্ম সর্বশক্তিমতে নমঃ।” দীপ্ত অর্পিতাকে জিজ্ঞাসা করল, “ঈশ্বর যদি নিরাকারই হবেন, তবে রাম, কৃষ্ণ বা নৃসিংহরূপে তিনি কেন পৃথিবীতে এসেছিলেন?” অর্পিতা উত্তরে বলল, “ঈশ্বর মহাশক্তিধর; তিনি নিরাকার হলেও ভক্তের প্রয়োজনে ও জগতের কল্যাণে যেকোনো রূপ ধারণ করার অসীম ক্ষমতার অধিকারী। পৃথিবীতে যখন ধর্মের গ্লানি ঘটে এবং অধর্ম বেড়ে যায়, তখন তিনি রূপ ধারণ করে নেমে আসেন।”

ক

বৈদিক যুগে রচিত ধর্মগ্রন্থের ছন্দোবদ্ধ কবিতাকে কী বলা হয়?জ্ঞানমূলক — ১

খ

"নিরাকারোহপি সাকারঃ" — কথাটির অর্থ ব্যাখ্যা করো।অনুধাবনমূলক — ২

গ

দীপ্তর প্রশ্নের প্রেক্ষিতে অবতার ধারণের উদ্দেশ্য পাঠ্যবইয়ের আলোকে ব্যাখ্যা করো।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

অর্পিতার ব্যাখ্যাটি যজুর্বেদের শান্তি পাঠের অন্তর্নিহিত ভাবকে কীভাবে সার্থক করে তুলেছে? আলোচনা করো।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

এই অধ্যায় পড়া কি শেষ হয়েছে?

পড়া শেষ হলে চিহ্নিত করুন যাতে আপনার সার্বিক অগ্রগতি ট্র্যাক করা যায়।