হিন্দুধর্ম শিক্ষা• অধ্যায় ১

স্রষ্টা ও সৃষ্টি এবং উপাসনা ও প্রার্থনা

তৃতীয় শ্রেণিহিন্দুধর্ম শিক্ষাঅধ্যায় ১✓ ফ্রি ডেমো

স্রষ্টা ও সৃষ্টি এবং উপাসনা ও প্রার্থনা

মূল পাঠ্যবই (PDF)

অধ্যায় চেকপয়েন্ট ও পাঠ অগ্রগতি০/১ সম্পন্ন

চেকপয়েন্টে ক্লিক করে সরাসরি ঐ অংশে পড়ুন এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন

সামগ্রিক পাঠ সমাপ্তি০%
১
চেকপয়েন্ট ১ / ১
ভূমিকা ও মূল বিষয়বস্তু

১ম পরিচ্ছেদ: স্রষ্টা ও সৃষ্টি

২য় পরিচ্ছেদ: সর্বশক্তিমান ঈশ্বর

৩য় পরিচ্ছেদ: ঈশ্বরকে ভালোবাসা

"জীবে প্রেম করে যেই জন,

সেই জন সেবিছে ঈশ্বর।"

সকল জীবকে ভালোবাসলে প্রকৃতপক্ষে ঈশ্বরকেই ভালোবাসা হয়। কোনো জীবকে অবহেলা বা আঘাত করলে ঈশ্বরকে অবহেলা করা হয়। তাই প্রতিটি জীবের যত্ন নেওয়া ও ভালোবাসা আমাদের পরম কর্তব্য।

৪র্থ পরিচ্ছেদ: উপাসনা ও প্রার্থনা

"বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা—

বিপদে আমি না যেন করি ভয়।..."

সুন্দর এই পৃথিবী ও প্রকৃতিআমাদের চারপাশের এই সুন্দর পৃথিবী নানা রূপ ও সৌন্দর্যে ভরপুর। গাছ-লতা-পাতা, জীবজন্তু, কীটপতঙ্গ, বনভূমি, উঁচু পাহাড়-পর্বত, সমভূমি, নদ-নদী, সাগর-মহাসাগর, বালুকাময় মরুভূমি এবং সবুজ শস্যক্ষেত্র নিয়ে আমাদের প্রকৃতি। ডালে ডালে নানা রঙের ফুল-ফল আর পাখির কলকাকলি মুখরিত করে রাখে চারিদিক। মাথার উপরে রয়েছে সীমাহীন সুনীল আকাশ, যেখানে দেখা যায় সূর্য, চন্দ্র, গ্রহ ও অসংখ্য নক্ষত্র।
বিশ্বজগতের মহান স্রষ্টাএই সুন্দর পৃথিবী ও বৈচিত্র্যময় প্রকৃতি হঠাৎ করে সৃষ্টি হয়নি। দীর্ঘ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে আজকের পৃথিবী। এ সমস্ত সৃষ্টির মূলে রয়েছেন একজন পরম করুণাময় মহান স্রষ্টা।
বিভিন্ন ধর্মে ও ভাষায় স্রষ্টার নামসনাতন বা হিন্দুধর্মে স্রষ্টাকে ঈশ্বর বলা হয়। এছাড়া তাঁকে পরমেশ্বর, ব্রহ্ম, পরমব্রহ্ম, পরমাত্মা, হরি, ভগবান প্রভৃতি নামেও ডাকা হয়। ইসলাম ধর্মে স্রষ্টাকে আল্লাহ বলা হয়। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীরা তাঁকে ঈশ্বর বা গড (God) বলেন। বৌদ্ধধর্মাবলম্বীরা পরম শ্রদ্ধায় গৌতম বুদ্ধের অহিংস অনুশাসন মেনে চলেন। ভাষায় ভাষায় স্রষ্টার বিভিন্ন নাম রয়েছে; যেমন—ইংরেজিতে গড (God), আরবিতে আল্লাহ এবং ফারসি ভাষায় খোদা বলা হয়। যেমন একই জলকে বিভিন্ন জন পানি বা ওয়াটার বলে, তেমনি একই অদ্বিতীয় স্রষ্টাকে বিভিন্ন নামে ডাকা হয়।
সৌরজগৎ ও মহাবিশ্বসূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবী ও অন্যান্য গ্রহ নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। সূর্য এবং এর গ্রহ-উপগ্রহ নিয়ে গঠিত হয়েছে সৌরজগৎ। পৃথিবী এই সৌরজগতেরই একটি গ্রহ। পৃথিবীর বাইরে মহাশূন্যে রয়েছে অনন্ত ও অসীম জগৎ, যাকে মহাবিশ্ব বলা হয়। সর্বশক্তিমান ঈশ্বরই এই সমগ্র মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা।
নিয়ম ও শৃঙ্খলামহাবিশ্বের সবকিছু একটি নির্দিষ্ট নিয়মে পরিচালিত হয়। প্রতিদিন সকালে সূর্য ওঠে ও সন্ধ্যায় অস্ত যায়। নিয়ম অনুযায়ী দিন ও রাত হয় এবং ঋতুর পরিবর্তন ঘটে। এই সকল প্রাকৃতিক নিয়ম ও ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করেন সর্বশক্তিমান ঈশ্বর।
ঈশ্বরের সর্বময় কর্তৃত্ব ও রূপঈশ্বর সকল শক্তির পরম অধিকারী। তিনি সমগ্র সৃষ্টির নিয়ন্তা। আমাদের জন্ম ও মৃত্যু তাঁরই দান। ঈশ্বরের ক্ষমতার কোনো সীমা নেই। যা আমরা দেখতে পাই বা যা এখনো কল্পনাও করতে পারিনি, ঈশ্বর তার সবকিছুরই স্রষ্টা। তিনি সবকিছু সৃষ্টি করেন, নিজ করুণায় পালন করেন এবং সময় হলে ধ্বংস বা লয় করেন। এভাবে তিনি নিজের শক্তি দিয়ে পুরো মহাবিশ্বকে ধারণ করে আছেন।
ঈশ্বর ও জীবের নিবিড় সম্পর্কঈশ্বর সকল জীব ও বস্তুকে সৃষ্টি করেছেন। তাই ঈশ্বর ও জীবের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্ক।
জীবদেহে ঈশ্বরের উপস্থিতিঈশ্বরকে খালি চোখে দেখা যায় না, কারণ তিনি নিরাকার। কিন্তু তিনি আত্মাস্বরূপে সকল জীবের ভেতরে অবস্থান করেন। তিনি আছেন বলেই জীবদেহে প্রাণ আছে, আমাদের জীবন আছে।
জীবসেবাই ঈশ্বরসেবাপ্রকৃতিকে নির্ভর করে আমরা বেঁচে থাকি। প্রকৃতি ঈশ্বরের দান এবং এর মাধ্যমে তিনি আমাদের লালন-পালন করেন। তাই আমরা ঈশ্বরের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। স্বামী বিবেকানন্দ বলেছেন—
উপাসনার অর্থ ও স্বরূপউপাসনা শব্দের অর্থ হলো একমনে ঈশ্বরকে স্মরণ করা, তাঁকে ডাকা এবং ভক্তিভরে আরাধনা করা। দয়াময়, কৃপাময়, করুণাময় ইত্যাদি হলো ঈশ্বরের পবিত্র গুণবাচক নাম। ঈশ্বরকে সাকার ও নিরাকার—উভয় রূপেই উপাসনা করা যায়।
সাকার ও নিরাকার উপাসনাসাকার উপাসনায় বিভিন্ন দেব-দেবীর প্রতিমা বা ছবির সামনে বসে ভক্তিভরে পূজা ও যজ্ঞ করা হয়। আর নিরাকার উপাসনায় কোনো রূপ বা প্রতিমা ছাড়া নীরবে জপ, ধ্যান, নামগান ও গুণকীর্তন করা হয়।
উপাসনার নিয়ম ও আসনউপাসনা একটি নিত্যকর্ম, যা প্রতিদিন নিয়মিত পালন করতে হয়। সাধারণত প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় উপাসনা করা বিধি। উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে মেরুদণ্ড সোজা রেখে উপাসনায় বসতে হয়। উপাসনায় বসার বিশেষ দুটি আসন হলো পদ্মাসন ও সুখাসন। নিয়মিত আসন অভ্যাসে শরীর ও মন সুস্থ ও পবিত্র থাকে।
প্রার্থনা ও তাঁর মহিমাউপাসনার একটি অন্যতম প্রধান দিক হলো প্রার্থনা। ঈশ্বরের কাছে অন্তরের আকুল ইচ্ছা প্রকাশ করা ও কল্যাণ চাওয়াই হলো প্রার্থনা। হাত জোড় করে ধীর-স্থির চিত্তে নিজের ভালো, অন্যের ভালো এবং সমগ্র জীবজগতের কল্যাণের জন্য প্রার্থনা করতে হয়। একা একা কিংবা সমবেতভাবে সবার সাথে মিলিত হয়েও প্রার্থনা করা যায়। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত প্রার্থনা সংগীত হলো—
উপাসনা ও প্রার্থনার সুফলনিয়মিত উপাসনা ও প্রার্থনা করলে মনের একাগ্রতা ও মনোযোগ বাড়ে, দেহ-মন পবিত্র থাকে, শরীর নিরোগ হয় এবং অন্তরে সত্য, ক্ষমা ও সৎ পথে চলার শক্তি জাগ্রত হয়।
চেকপয়েন্ট ১ এর ১
মনে রাখার মতো তথ্য
১আমাদের এই রূপময় ও সুশৃঙ্খল পৃথিবীর সমস্ত সৃষ্টির মূলে রয়েছেন একজন মহান স্রষ্টা।
২হিন্দুধর্মে স্রষ্টাকে ঈশ্বর, পরমেশ্বর, ব্রহ্ম, পরমব্রহ্ম, পরমাত্মা, হরি ও ভগবান প্রভৃতি নামে ডাকা হয়।
৩ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম ও ভাষায় স্রষ্টাকে ভিন্ন নামে ডাকা হলেও (যেমন: আল্লাহ, গড, খোদা) মূল স্রষ্টা এক ও অদ্বিতীয়।
৪সূর্য এবং তাকে কেন্দ্র করে আবর্তনশীল পৃথিবীসহ বিভিন্ন গ্রহ ও উপগ্রহ নিয়ে গঠিত সৌরজগৎ।
৫মহাবিশ্বের যাবতীয় নিয়ম, যেমন দিন-রাতের আবর্তন ও ঋতু পরিবর্তন, সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের নিয়ন্ত্রণে ঘটে।
৬সকল শক্তির উৎস হলেন ঈশ্বর; তিনি সৃষ্টি করেন, পালন করেন এবং তিনিই সংহার বা ধ্বংস করেন।
৭ঈশ্বর অদৃশ্য হলেও আত্মাস্বরূপে প্রতিটি জীবের হৃদয়ে এবং সমগ্র সৃষ্টির মাঝে বিরাজমান।
৮স্বামী বিবেকানন্দের অমর বাণী: 'জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর'—অর্থাৎ জীবসেবাই ঈশ্বরসেবা।
৯কোনো জীবকে অবহেলা বা নির্যাতন করা মানে ঈশ্বরকে অবহেলা করা; জীবকে ভালোবাসলে ঈশ্বর সন্তুষ্ট হন।
১০উপাসনা শব্দের অর্থ হলো একমনে ঈশ্বরকে স্মরণ করা ও তাঁর গুণকীর্তন বা আরাধনা করা।
১১দয়াময়, কৃপাময়, করুণাময় ইত্যাদি ঈশ্বরের মহিমান্বিত গুণবাচক নাম।
১২ঈশ্বরকে সাকার (প্রতিমার মাধ্যমে পূজা ও যজ্ঞ) এবং নিরাকার (জপ, ধ্যান ও নামগান) উভয়ভাবেই উপাসনা করা যায়।
১৩উপাসনা একটি নিত্যকর্ম, যা প্রতিদিন সকাল, দুপুর ও সন্ধ্যায় উত্তর বা পূর্ব দিকে মুখ করে করা বিধি।
১৪পদ্মাসন ও সুখাসনে বসে উপাসনা ও ধ্যান করলে মেরুদণ্ড সোজা থাকে এবং শরীর ও মন সুস্থ থাকে।
১৫প্রার্থনা হলো বিনীতভাবে ঈশ্বরের কাছে মঙ্গলের জন্য কিছু চাওয়া, যা একা কিংবা সমবেতভাবে করা যায়।
১৬রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিখ্যাত প্রার্থনা সংগীত 'বিপদে মোরে রক্ষা করো'-তে বিপদে ভয় না পেয়ে জয় করার শক্তি চাওয়া হয়েছে।
শব্দার্থ ও টীকা
স্রষ্টা

যিনি কোনো কিছু সৃষ্টি করেন; নিখিল বিশ্বের সৃষ্টিকর্তা বা ঈশ্বর।

সৃষ্টি

যা নতুনভাবে তৈরি বা উৎপন্ন করা হয়েছে; সমগ্র জীবজগৎ ও প্রকৃতি।

ঈশ্বর

সনাতন ধর্মে সর্বশক্তিমান পরম প্রভু ও মহাবিশ্বের অধিপতি।

পরমেশ্বর

পরম বা শ্রেষ্ঠ ঈশ্বর; অসীম ক্ষমতার অধিকারী পরম প্রভু।

ব্রহ্ম

সর্বব্যাপী ও সর্বশক্তিমান আদি অনন্ত চৈতন্যময় পরম সত্তা।

পরমব্রহ্ম

সর্বোচ্চ পরমাত্মা বা ঈশ্বর, যাঁর কোনো সীমা বা ক্ষয় নেই।

পরমাত্মা

সকল সৃষ্টির মূল আত্মা বা পরম প্রভু, যিনি সর্বভূতে বিরাজমান।

হরি

শ্রীভগবানের একটি পবিত্র নাম; যিনি ভক্তের পাপ ও জাগতিক দুঃখ হরণ করেন।

ভগবান

যাঁর মধ্যে সমগ্র ঐশ্বর্য, বীর্য, যশ, শ্রী, জ্ঞান ও বৈরাগ্য—এই ছয়টি গুণ পূর্ণরূপে বিদ্যমান।

সৌরজগৎ

সূর্য এবং তাকে কেন্দ্র করে আবর্তনশীল গ্রহ, উপগ্রহ ও জ্যোতিষ্কের পরিবার।

মহাবিশ্ব

দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান কোটি কোটি ছায়াপথ, নক্ষত্র, গ্রহ ও মহাশূন্যের সামগ্রিক রূপ।

সর্বশক্তিমান

যাঁর সকল বিষয়ে অসীম ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব রয়েছে; ঈশ্বর।

আত্মাস্বরূপ

আত্মারূপে বা জীবদেহের অভ্যন্তরীণ অদৃশ্য প্রাণচৈতন্যের রূপে।

নিবিড়

অত্যন্ত গভীর, ঘনিষ্ঠ বা নিবিড়তম বন্ধন।

উপাসনা

একমনে ঈশ্বরের নাম স্মরণ করা, তাঁর ধ্যান করা ও ভক্তিভরে আরাধনা করা।

আরাধনা

ভক্তি সহকারে দেব-দেবী বা ঈশ্বরের পূজা, অর্চনা ও সেবা করা।

গুণবাচক নাম

যে নাম দ্বারা বিশেষ কোনো সদগুণ বা মহিমা প্রকাশ পায় (যেমন: দয়াময়, কৃপাময়)।

সাকার

আকারযুক্ত বা রূপবিশিষ্ট; প্রতিমা বা মূর্তির রূপ।

নিরাকার

যার কোনো বাহ্যিক আকার, অবয়ব বা চাক্ষুষ রূপ নেই।

নিত্যকর্ম

প্রতিদিন নিয়ম করে অবশ্য পালনীয় ধর্মীয় বা আত্মিক কর্তব্য।

পদ্মাসন

ধ্যানের একটি বিশেষ আসন, যেখানে পা দুটি পদ্মের পাপড়ির মতো ভাঁজ করে বসতে হয়।

সুখাসন

সহজ ও স্বস্তিদায়কভাবে সাধারণ পা মুড়ে বসার ধ্যানের আসন।

প্রার্থনা

বিনীত চিত্তে ঈশ্বরের কাছে নিজের বা অন্যের জন্য কল্যাণ ও শক্তি কামনা করা।

সমবেত

অনেকে মিলে একসঙ্গে দলবদ্ধভাবে একত্র হওয়া।

অনুশাসন

ধর্মীয় নির্দেশ, আদেশ বা জীবনযাপনের পবিত্র নিয়মাবলি।

বইয়ের অনুশীলনীর উত্তর

অনুশীলনীর প্রশ্নগুলো সবার জন্য খোলা — পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন নিন

সাবস্ক্রিপশন নিন

ফ্রিতে উত্তর দেখতে চান?

১টি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখলেই এই অধ্যায়ের সমস্ত উত্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ফ্রি আনলক হবে!

প্রশ্ন ১আমাদের এই সুন্দর পৃথিবী কীভাবে সৃষ্টি হয়েছে এবং এর মূলে কে রয়েছেন?

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

প্রশ্ন ২ঈশ্বরকে সর্বশক্তিমান বলা হয় কেন? তিনি কীভাবে মহাবিশ্ব পরিচালনা করেন?

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

প্রশ্ন ৩স্বামী বিবেকানন্দের 'জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর' চরণটির তাৎপর্য বুঝিয়ে লেখো।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

প্রশ্ন ৪উপাসনা ও প্রার্থনার নিয়মাবলি এবং এর উপকারিতা আলোচনা করো।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

উদ্দীপক আর প্রশ্ন সবার জন্য খোলা — পূর্ণ উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন নিন

সাবস্ক্রিপশন নিন

ফ্রিতে সৃজনশীলের উত্তর পড়তে চান?

১টি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখলেই এই অধ্যায়ের সমস্ত সৃজনশীল সমাধান আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ফ্রি আনলক হবে!

সৃজনশীল প্রশ্ন ১১০ নম্বর
উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী তনুশ্রী ও তার বন্ধু সুমাইয়া স্কুল প্রাঙ্গণের ফুলের বাগানে নানা রঙের প্রজাপতি ও সুন্দর ফুল দেখে আনন্দ প্রকাশ করছিল। সুমাইয়া বলল, 'এই সুন্দর পৃথিবী ও জীবজগৎ পরম দয়ালু আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন।' তনুশ্রী বলল, 'আমরা সনাতন ধর্মে তাঁকে ঈশ্বর বা পরমেশ্বর বলি। খ্রিষ্টানরা বলেন গড। যেমন জলকে কেউ পানি বা ওয়াটার বলে, তেমনি স্রষ্টা এক হলেও বিভিন্ন ধর্মে তাঁর নাম ভিন্ন।'

ক

হিন্দুধর্মে নিখিল বিশ্বের স্রষ্টাকে কী বলা হয়?জ্ঞানমূলক — ১

খ

'একই জলকে বিভিন্ন নামে ডাকার মতো ঈশ্বরকেও ভিন্ন নামে ডাকা হয়'—ব্যাখ্যা করো।অনুধাবনমূলক — ২

গ

উদ্দীপকে তনুশ্রীর বক্তব্যে পাঠ্যবইয়ের কোন পরিচ্ছেদের শিক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে? আলোচনা করো।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

'স্রষ্টা এক এবং সকল ধর্মের মূল সুর তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন'—উদ্দীপক ও পাঠ্যবইয়ের আলোকে উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ২১০ নম্বর
উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

সৌরভ রাতের খোলা আকাশের দিকে তাকিয়ে নক্ষত্র ও চাঁদের আলো দেখে বিস্মিত হলো। সে জানতে পারল, প্রতিদিন নিয়ম করে সকালে সূর্য ওঠে এবং সন্ধ্যায় অস্ত যায়। সূর্যকে কেন্দ্র করে পৃথিবীসহ অন্যসব গ্রহ নিজ নিজ পথে আবর্তিত হচ্ছে। তার বাবা তাকে বুঝিয়ে বললেন, 'এই সবকিছু একটি সুনির্দিষ্ট নিয়মে চলছে এবং একজন সর্বশক্তিমান চালক তাঁর অনন্ত শক্তি দিয়ে নিখিল বিশ্বকে ধারণ ও পরিচালনা করছেন। তিনিই জীবন দেন, তিনিই পালন করেন।'

ক

পৃথিবীর বাইরে যে বিশাল জগৎ রয়েছে তাকে কী বলা হয়?জ্ঞানমূলক — ১

খ

ঈশ্বরকে সর্বশক্তিমান বলা হয় কেন?অনুধাবনমূলক — ২

গ

সৌরভের বাবার কথায় পাঠ্যবইয়ের কোন পরিচ্ছেদের মূলভাব ফুটে উঠেছে? ব্যাখ্যা করো।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

'মহাবিশ্বের সুশৃঙ্খল পরিচালনা ও জীবের অস্তিত্ব সর্বশক্তিমান ঈশ্বরেরই নিয়ন্ত্রণাধীন'—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩১০ নম্বর
উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

অনন্যা প্রতিদিন বিদ্যালয় থেকে ফিরে তাদের বাড়ির পোষা বিড়াল ও গরুকে যত্ন করে খাবার দেয়। একদিন সে দেখল, উঠানের এক কোণে আঘাত পেয়ে একটি শালিক পাখি ছটফট করছে। অনন্যা পরম মমতায় পাখিটিকে কোলে তুলে নিল, তার ক্ষতে ওষুধ লাগিয়ে সেবা করল এবং চালের গুঁড়ো খেতে দিল। অনন্যার ছোট ভাই তাকে বলল, 'তুমি পূজার ঘরে না গিয়ে পাখির সেবা করছ কেন?' অনন্যা উত্তর দিল, 'জীবকে ভালোবাসলে ও সেবা করলেই তো ঈশ্বরের পূজা করা হয়।'

ক

স্বামী বিবেকানন্দ জীবসেবা সম্পর্কে কী বলেছেন?জ্ঞানমূলক — ১

খ

ঈশ্বরকে দেখা না গেলেও কীভাবে তাঁর সেবা করা সম্ভব?অনুধাবনমূলক — ২

গ

অনন্যার কাজের মধ্য দিয়ে পাঠ্যবইয়ের তৃতীয় পরিচ্ছেদের কোন নীতিটি বাস্তবায়িত হয়েছে? আলোচনা করো।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

'অনন্যার উপলব্ধিই সনাতন ধর্মের ঈশ্বর উপাসনার প্রকৃত সারকথা'—মূল্যায়ন করো।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪১০ নম্বর
উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

জয়ন্ত প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় হাত-মুখ ধুয়ে পূর্ব দিকে মুখ করে পদ্মাসনে বসে। সে একমনে পরমেশ্বরের গুণকীর্তন করে এবং ধ্যান করে। এরপর হাত জোড় করে প্রার্থনা করে, 'হে ঈশ্বর! আমাকে ভালো পথে পরিচালিত করো, আমার জ্ঞান বৃদ্ধি করো এবং জগতের সকল জীবের মঙ্গল করো।' সে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'বিপদে মোরে রক্ষা করো এ নহে মোর প্রার্থনা, বিপদে আমি না যেন করি ভয়' গানটি ভক্তিভরে গায়। এতে জয়ন্তের শরীর ও মন সবসময় শান্ত ও প্রফুল্ল থাকে।

ক

উপাসনায় বসার দুটি বিশেষ আসনের নাম কী?জ্ঞানমূলক — ১

খ

উপাসনাকে 'নিত্যকর্ম' বলা হয় কেন?অনুধাবনমূলক — ২

গ

জয়ন্ত কীভাবে উপাসনা ও প্রার্থনা সম্পন্ন করে, তা পাঠ্যবইয়ের চতুর্থ পরিচ্ছেদের আলোকে ব্যাখ্যা করো।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

'জয়ন্তের মতো নিয়মিত উপাসনা ও প্রার্থনার অভ্যাস শিশুর শারীরিক ও মানসিক বিকাশে অত্যন্ত ফলপ্রসূ'—মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

এই অধ্যায় পড়া কি শেষ হয়েছে?

পড়া শেষ হলে চিহ্নিত করুন যাতে আপনার সার্বিক অগ্রগতি ট্র্যাক করা যায়।