প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, জনপদ ও রাজবংশ (মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক, পাল ও সেন)
প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, জনপদ ও রাজবংশ (মৌর্য, গুপ্ত, শশাঙ্ক, পাল ও সেন)
অধ্যায় চেকপয়েন্ট ও পাঠ অগ্রগতি০/১৩ সম্পন্ন
চেকপয়েন্টে ক্লিক করে সরাসরি ঐ অংশে পড়ুন এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন
### প্রাচীন বাংলার ইতিহাস, ঐতিহ্য, জনপদ ও রাজবংশ — প্রিলিমিনারি পূর্ণাঙ্গ নোট
প্রাচীনকালে সমগ্র বাংলাদেশ একক কোনো নামে পরিচিত ছিল না; বরং বাংলার বিভিন্ন অঞ্চল ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন ভৌগোলিক ভাগে বিভক্ত ছিল। এই বিভক্ত অঞ্চলগুলোকে বলা হতো **জনপদ**।
### ১. প্রাচীন বাংলার প্রধান জনপদসমূহ
প্রাচীন বাংলায় রাজনৈতিক ও ভৌগোলিকভাবে বিভক্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন অঞ্চল বা জনবসতি
৭ম-৮ম শতকে শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় বিদ্যমান চরম অরাজকতা ও সবলের দুর্বলকে শোষণের অবস্থা
প্রাচীন বাংলার প্রাচীনতম রাজধানী ও সুরক্ষিত নগর, যা বর্তমান বগুড়ার মহাস্থানগড়
নওগাঁর পাহাড়পুরে রাজা ধর্মপাল কর্তৃক নির্মিত দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ বৌদ্ধ বিহার (ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ)
সেন রাজা বল্লাল সেন কর্তৃক প্রবর্তিত উচ্চবর্ণের হিন্দুদের সামাজিক শ্রেষ্ঠত্ব ও আভিজাত্য রক্ষার বৈবাহিক নিয়ম
মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত খ্রিস্টপূর্ব ৩য় শতকের প্রাচীনতম ভারতীয় শিলালিপি যার থেকে বাংলা লিপির বিকাশ ঘটেছে
১০৭০ খ্রিস্টাব্দে পাল রাজা ২য় মহীপালের বিরুদ্ধে উত্তরবঙ্গের ধীবর/কৃষক নেতা দিব্যোকের নেতৃত্বে সংঘটিত প্রথম গণবিদ্রোহ
সন্ধ্যাকর নন্দী রচিত সংস্কৃত দ্বি-অর্থবোধক মহাকাব্য যাতে রামায়ণ ও রামপালের বরেন্দ্র উদ্ধার সমান্তরালে বর্ণিত
প্রাচীন গৌড় রাজ্যের রাজধানী যা বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার রাঙামাটিতে অবস্থিত
সেন রাজা বল্লাল সেন রচিত জ্যোতির্বিদ্যা ও শাস্ত্রীয় দান সংক্রান্ত দুটি বিখ্যাত সংস্কৃত গ্রন্থ
লক্ষণ সেনের সভাকবি জয়দেব রচিত রাধাকৃষ্ণের প্রেম বিষয়ক কালজয়ী সংস্কৃত কাব্য
লক্ষণ সেনের সভাকবি ধোয়ী রচিত কালিদাসের মেঘদূতের অনুকরণে লেখা বিখ্যাত সংস্কৃত দূতকাব্য
মালদহে প্রাপ্ত ধর্মপালের তাম্রফলক যাতে গোপালের সর্বসম্মত নির্বাচনের ঐতিহাসিক বিবরণ লিপিবদ্ধ আছে
নরসিংদীতে আবিষ্কৃত আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন মাটির নিচে প্রোথিত দুর্গ নগর ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র
প্রাচীন বাংলার বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী প্রধান সমুদ্র বন্দর ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র (বর্তমান তমলুক)
কবি উমাপতি ধর রচিত শিলালিপি যাতে সেন রাজা বিজয় সেনের দিগ্বিজয় ও বংশ পরিচয় বর্ণিত হয়েছে
ঋগ্বেদের প্রাচীন বৈদিক ধর্মগ্রন্থ যেখানে সর্বপ্রথম 'বঙ্গ' নামের জনগোষ্ঠীর উল্লেখ পাওয়া যায়
গুপ্ত যুগে ভারতে আসা চীনা পরিব্রাজক ফা-হিয়েনের বিখ্যাত ভ্রমণবৃত্তান্ত
৭ম শতকে হর্ষবর্ধন ও শশাঙ্কের আমলে বাংলায় আসা চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাংয়ের ভ্রমণগ্রন্থ
পাল যুগে বিকাশ লাভ করা বৌদ্ধ ধর্মের একটি শাখা যার অনুসারীরা চর্যাপদ রচনা করেছিলেন
সিন্ধু সভ্যতার সমসাময়িক হলেও বাংলায় উয়ারী-বটেশ্বর ও মহাস্থানগড় প্রাচীন দ্বিতীয় নগরায়নের প্রতীক
আলেকজান্ডারের ভারত আক্রমণের সময় গঙ্গা নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা অপরাজেয় পরাক্রমশালী বাঙালি সাম্রাজ্য
পাল সম্রাট ধর্মপাল কর্তৃক ভারতের বিহারে প্রতিষ্ঠিত প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় ও জ্ঞানকেন্দ্র
পাল রাজা রামপাল কর্তৃক বরেন্দ্র ভূমিতে প্রতিষ্ঠিত বিখ্যাত বৌদ্ধ বিহার ও তিব্বতি অনুবাদের কেন্দ্র
প্রাচীনকালে তামার পাতে খোদাই করে রাজকীয় জমিদান ও আদেশনামা প্রচারের প্রাচীন নথি
অনুশীলনীর প্রশ্নগুলো সবার জন্য খোলা — পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন নিন
সাবস্ক্রিপশন নিনফ্রিতে উত্তর দেখতে চান?
১টি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখলেই এই অধ্যায়ের সমস্ত উত্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ফ্রি আনলক হবে!
প্রশ্ন ১প্রাচীন বাংলার প্রধান জনপদসমূহের ভৌগোলিক অবস্থান এবং এদের মধ্যে পুণ্ড্র ও বঙ্গ জনপদের ঐতিহাসিক গুরুত্ব সংক্ষেপে আলোচনা করুন।
উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।
প্রশ্ন ২মাৎস্যন্যায় কী? কীভাবে এই অরাজকতার অবসান ঘটে এবং গোপালের নির্বাচন বাংলার ইতিহাসে কেন অনন্য?
উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।
প্রশ্ন ৩পাল রাজবংশের শাসনকালকে বাংলার ইতিহাসের স্বর্ণযুগ বলা হয় কেন? পালদের সাংস্কৃতিক ও স্থাপত্য অবদান আলোচনা করুন।
উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।
প্রশ্ন ৪সেন রাজবংশের শাসনের রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব এবং কীভাবে বাংলায় মুসলিম শাসনের দ্বার উন্মোচিত হয় ব্যাখ্যা করুন।
উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।
উদ্দীপক আর প্রশ্ন সবার জন্য খোলা — পূর্ণ উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন নিন
সাবস্ক্রিপশন নিনফ্রিতে সৃজনশীলের উত্তর পড়তে চান?
১টি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখলেই এই অধ্যায়ের সমস্ত সৃজনশীল সমাধান আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ফ্রি আনলক হবে!
উদ্দীপক
প্রাচীন বাংলা একক কোনো কেন্দ্রীয় শাসনের অধীনে ছিল না, বরং পুণ্ড্র, বঙ্গ, গৌড়, সমতট ও হরিকেল ইত্যাদি স্বাধীন জনপদে বিভক্ত ছিল। পুণ্ড্রনগর ছিল প্রাচীনতম সমৃদ্ধ নগর কেন্দ্র এবং মহাস্থানগড়ে প্রাপ্ত ব্রাহ্মী লিপি বাংলার লিখিত ইতিহাসের সূচনাবিন্দু। পরবর্তীতে ৭ম শতকে রাজা শশাঙ্ক গৌড়কে কেন্দ্র করে প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন।
বাংলার প্রাচীনতম খোদাই করা শিলালিপিটি কোন লিপিতে লিখিত?জ্ঞানমূলক — ১
রাজা শশাঙ্ককে 'বাংলার প্রথম স্বাধীন ও সার্বভৌম নরপতি' বলা হয় কেন?অনুধাবনমূলক — ২
প্রাচীন বঙ্গ জনপদের ভৌগোলিক পরিধি এবং 'বাংলাদেশ' নামকরণের সাথে এর ঐতিহাসিক সম্পর্ক ব্যাখ্যা করুন।প্রয়োগমূলক — ৩
মহাস্থানগড় ও উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক আবিষ্কার প্রাচীন বাংলার নগরায়নের ইতিহাসে কী বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছে মূল্যায়ন করুন।উচ্চতর দক্ষতা — ৪
উদ্দীপক
শশাঙ্কের মৃত্যুর পর বাংলায় এক দীর্ঘ অরাজকতা নেমে আসে যা 'মাৎস্যন্যায়' নামে পরিচিত। এই অন্ধকার দূর করতে ৭৫০ খ্রিস্টাব্দে বাংলার প্রকৃতিপুঞ্জ একমত হয়ে গোপালকে সিংহাসনে বসায়। এর ফলে চারশত বছরের সুবর্ণ পাল রাজবংশের সূচনা ঘটে, যা সোমপুর মহাবিহার নির্মাণ এবং বাংলা ভাষার আদি নিদর্শন চর্যাপদের সৃষ্টিতে ভাস্বর।
নওগাঁর পাহাড়পুরে অবস্থিত সোমপুর মহাবিহার কে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?জ্ঞানমূলক — ১
'মাৎস্যন্যায়' প্রত্যয়টি দ্বারা বাংলার কোন রাজনৈতিক বাস্তবতাকে বোঝানো হয়?অনুধাবনমূলক — ২
খালিমপুর তাম্রশাসনের আলোকে পাল বংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের নির্বাচন পদ্ধতির অনন্যতা আলোচনা করুন।প্রয়োগমূলক — ৩
পাল রাজাদের চারশত বছরের শাসনকালকে প্রাচীন বাংলার 'স্বর্ণযুগ' হিসেবে অভিহিত করার যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করুন।উচ্চতর দক্ষতা — ৪
উদ্দীপক
দ্বিতীয় মহীপালের অপশাসনের সময় বরেন্দ্র অঞ্চলের কৃষিজীবী ধীবর সম্প্রদায় দিব্য বা দিব্বোকের নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী বিদ্রোহ সংঘটিত করে যা ইতিহাসে 'কৈবর্ত বিদ্রোহ' নামে খ্যাত। দিব্যোক মহীপালকে হত্যা করে বরেন্দ্রে স্বাধীন শাসন কায়েম করেন। পরবর্তীতে রামপাল কৈবর্তদের পরাজিত করে সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করেন।
কৈবর্ত বিদ্রোহের মূল নেতার নাম কী ছিল?জ্ঞানমূলক — ১
কৈবর্ত বিদ্রোহকে বাংলার প্রথম সফল গণবিদ্রোহ বলা হয় কেন?অনুধাবনমূলক — ২
সন্ধ্যাকর নন্দীর 'রামচরিতম' মহাকাব্যে কৈবর্ত বিদ্রোহ ও রামপালের অভিযানের চিত্র কীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে?প্রয়োগমূলক — ৩
কৈবর্ত বিদ্রোহের সাফল্য ও পরবর্তীতে পতন পাল সাম্রাজ্যের রাজনৈতিক ভাগ্যে কী প্রভাব ফেলেছিল মূল্যায়ন করুন।উচ্চতর দক্ষতা — ৪
উদ্দীপক
দক্ষিণ ভারত থেকে আসা সেন রাজারা বাংলায় পালদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে গোঁড়া সনাতন ব্রাহ্মণ্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। বল্লাল সেনের 'কৌলিন্য প্রথা' সামাজিক বৈষম্য বৃদ্ধি করলেও লক্ষণ সেনের রাজসভা গীতগোবিন্দমের কবি জয়দেব এবং পবনদূতের কবি ধোয়ীর কাব্যপ্রতিভায় উজ্জ্বল ছিল। তবে ১২০৪ সালে নদীয়া আক্রমণের মধ্য দিয়ে সেন শাসনের অবসান ঘটে।
সেন রাজারা রচিত দুটি বিখ্যাত সংস্কৃত স্মৃতিগ্রন্থ 'দানসাগর' ও 'অদ্ভুতসাগর'-এর প্রণেতা কে?জ্ঞানমূলক — ১
বল্লাল সেন প্রবর্তিত 'কৌলিন্য প্রথা' বাংলার সমাজে কী ধরণের বৈষম্য সৃষ্টি করেছিল?অনুধাবনমূলক — ২
লক্ষণ সেনের রাজসভার 'পঞ্চরত্ন' এবং তাঁদের সাহিত্যিক অবদানের পরিচয় দিন।প্রয়োগমূলক — ৩
বখতিয়ার খলজির নদীয়া অভিযানের সময় সেন সাম্রাজ্যের পতন এত আকস্মিক ও প্রতিরোধহীন হওয়ার ঐতিহাসিক কারণ বিশ্লেষণ করুন।উচ্চতর দক্ষতা — ৪
এই অধ্যায় পড়া কি শেষ হয়েছে?
পড়া শেষ হলে চিহ্নিত করুন যাতে আপনার সার্বিক অগ্রগতি ট্র্যাক করা যায়।