ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (বিসিএস)• অধ্যায় ১

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক সীমানা, ভূ-প্রকৃতি ও ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব

বিসিএসভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (বিসিএস)অধ্যায় ১✓ ফ্রি ডেমো

বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক সীমানা, ভূ-প্রকৃতি ও ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব

অধ্যায় চেকপয়েন্ট ও পাঠ অগ্রগতি০/৬ সম্পন্ন

চেকপয়েন্টে ক্লিক করে সরাসরি ঐ অংশে পড়ুন এবং প্রস্তুতি সম্পন্ন করুন

সামগ্রিক পাঠ সমাপ্তি০%
১
চেকপয়েন্ট ১ / ৬
ভূমিকা ও মূল বিষয়বস্তু

### বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক সীমানা, ভূ-প্রকৃতি ও ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব — বিসিএস পূর্ণাঙ্গ মাস্টার নোট

ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অংশে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান, আন্তর্জাতিক সীমানা, ভূ-প্রকৃতি ও ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব থেকে প্রতি বছর একাধিক প্রশ্ন আসে। নিচে এই অধ্যায়ের প্রতিটি মৌলিক বিষয় পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হলো।

### ১. বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমা (Geographical Location & Coordinates)

### ২. আয়তন ও আন্তর্জাতিক সীমানা (Area & International Boundaries)

### ৩. ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময় ও তিনবিঘা করিডোর (Enclaves & Tin Bigha Corridor)

### ৪. সমুদ্রসীমা বিজয় ও ব্লু-ইকোনমি (Maritime Boundaries & Blue Economy)

### ৫. বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি (Physiography of Bangladesh)

ভূতাত্ত্বিক গঠন ও ভূমিরূপের বৈশিষ্ট্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশকে প্রধান **৩টি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলে** বিভক্ত করা হয়:

#### ১. টারশিয়ারি যুগের পাহাড়সমূহ (Tertiary Hills - মোট ভূমির ১২%):

#### ২. প্লাইস্টোসিন কালের সোপানসমূহ (Pleistocene Terraces - মোট ভূমির ৮%):

#### ৩. সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি (Recent Floodplains - মোট ভূমির ৮০%):

### ৬. বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব (Geostrategic Significance)

--
**অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশীয় বিস্তার**
অক্ষাংশ২০°৩৪′ উত্তর অক্ষাংশ হতে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ।
দ্রাঘিমাংশ৮৮°০১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ হতে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
মোট বিস্তারঅক্ষাংশীয় বিস্তার প্রায় ৬°০৪′ এবং দ্রাঘিমাংশীয় বিস্তার প্রায় ৪°৪০′।
**কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer - ২৩°৩০′ বা ২৩.৫° উত্তর অক্ষাংশ):**
কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের প্রায় মাঝামাঝি অঞ্চল দিয়ে পূর্ব-পশ্চিমে অতিক্রম করেছে।
অতিক্রমকারী প্রধান জেলাসমূহচুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, রাজবাড়ী, ফরিদপুর, ঢাকা, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা ও খাগড়াছড়ি।
**৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা (90° E Meridian)**
৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা বাংলাদেশের প্রায় কেন্দ্রস্থল দিয়ে উত্তর-দক্ষিণে অতিক্রম করেছে। এটি দেশের মধ্যভাগ ও ঢাকার উপর দিয়ে গেছে।
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় (BST = GMT + 600 ঘন্টা) এই ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখার উপর ভিত্তি করে গণনা করা হয়।
**বাংলাদেশের চার চরম বিন্দু (Extreme Points of Bangladesh)**
**উত্তরতম বিন্দু** বাংলাবান্ধা ইউনিয়ন (স্থান: জাঁতিকুয়া), উপজেলা: তেঁতুলিয়া, জেলা: পঞ্চগড় (২৬°৩৮′ উত্তর)।
**দক্ষিণতম বিন্দু** ছেঁড়াদ্বীপ, উপজেলা: টেকনাফ, জেলা: কক্সবাজার (২০°৩৪′ উত্তর)। [মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম স্থান: শাহপরীর দ্বীপ]।
**পূর্বতম বিন্দু** আখাইনঠং, উপজেলা: থানচি, জেলা: বান্দরবান (৯২°৪১′ পূর্ব)।
**পশ্চিমতম বিন্দু** মনাকশা ইউনিয়ন, উপজেলা: শিবগঞ্জ, জেলা: চাঁপাইনবাবগঞ্জ (৮৮°০১′ পূর্ব)।
--
**আয়তন**
বাংলাদেশের সরকারি ভৌগোলিক আয়তন**১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার** (বা **৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল**)।
২০১৫ সালের ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময়ের ফলে বাংলাদেশের নিট ভূখণ্ড বৃদ্ধি পেয়েছে ১০,০৪৮.৫৫ একর।
**মোট সীমারেখা (Total Boundary Line)**
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (BGB) ও সরকারি জরিপ অনুযায়ী বাংলাদেশের মোট সীমারেখা **৪,৭১১ কিলোমিটার** (কারো মতে ৪,২৪৬ কিমি)।
**ভারতের সাথে সীমান্ত** মোট ৪,১৫৬ কিলোমিটার (স্থলসীমান্ত ৩,৭১৫ কিমি এবং জলসীমান্ত ৪৪১ কিমি)।
**মিয়ানমারের সাথে সীমান্ত** মোট ২৭১ কিলোমিটার (স্থলসীমান্ত ২০৮ কিমি এবং নাফ নদী জলসীমান্ত ৬৩ কিমি)।
**উপকূলরেখা (Coastline)** ৭১৬ কিলোমিটার (খাঁজবিহীন উপকূলীয় দৈর্ঘ্য প্রায় ৫৮০ কিলোমিটার)।
**সীমান্তবর্তী জেলাসমূহ (Border Districts)**
বাংলাদেশের মোট সীমান্তবর্তী জেলা**৩২টি**।
ভারতের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা**৩০টি** (পশ্চিমবঙ্গের সাথে ২১টি, আসামের সাথে ৪টি, মেঘালয়ের সাথে ৪টি, ত্রিপুরার সাথে ৬টি এবং মিজোরামের সাথে ১টি জেলা সংলগ্ন)।
মিয়ানমারের সাথে সীমান্তবর্তী জেলা**৩টি** (রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার)।
ভারত ও মিয়ানমার—উভয় দেশের সাথেই সীমান্ত রয়েছে এমন জেলা**১টি** (রাঙ্গামাটি জেলা)।
কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই এমন বিভাগ**২টি** (ঢাকা বিভাগ ও বরিশাল বিভাগ)।
কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই এমন জেলা**৩২টি** (মোট ৬৪ জেলার মধ্যে ৩২টি সীমান্তবর্তী এবং ৩২টি সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ)।
--
**পটভূমি** ১৯৪৭ সালের বিতর্কিত র‍্যাডক্লিফ রোয়েদাদের কারণে ভারত ও তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের অভ্যন্তরে শত শত ছিটমহল তৈরি হয়।
**ইন্দিরা-মুজিব চুক্তি (LBA - 1974)** ১৯৭৪ সালের ১৬ই মে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী 'স্থল সীমান্ত চুক্তি' (Land Boundary Agreement) স্বাক্ষর করেন।
**১০০তম সাংবিধানিক সংশোধনী** ২০১৫ সালের মে মাসে ভারতের লোকসভা ও রাজ্যসভায় ভারতের সংবিধানের ১০০তম সংশোধনীর মাধ্যমে ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তি অনুমোদিত হয়।
**বাস্তবায়ন** **২০১৫ সালের ৩১শে জুলাই দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে (১ আগস্ট ২০১৫)** দুই দেশের মধ্যে ১৬২টি ছিটমহল বিনিময় চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়।
বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের ছিটমহল ছিল**১১১টি** (মোট ১৭,১৫৮ একর)।
ভারতের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের ছিটমহল ছিল**৫১টি** (মোট ৭,১১০ একর)।
ছিটমহল বিনিময়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ড লাভ**১০,০৪৮.৫৫ একর**।
ছিটমহলবাসী নাগরিকত্ব বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা পেয়েছিলেন।
**তিনবিঘা করিডোর (Tin Bigha Corridor)**
লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম উপজেলার সাথে ছিটমহল 'দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা'কে যুক্ত করতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কোচবিহার জেলার অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি বিশেষ ভূমি করিডোর (দৈর্ঘ্য ১৭৮ মিটার ও প্রস্থ ৮৫ মিটার)।
২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে তিনবিঘা করিডোর ২৪ ঘণ্টার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
--
**আইনি ভিত্তি** ১৯৮২ সালের জাতিসংঘ সমুদ্র আইন সনদ বা **UNCLOS-III** (United Nations Convention on the Law of the Sea)।
**মায়ানমারের সাথে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি (ITLOS)**
আদালতজার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত **আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল (ITLOS)**।
রায় ঘোষণার তারিখ**১৪ মার্চ ২০১২**।
অর্জনবাংলাদেশ ন্যায্যতার (Equitable Principle) ভিত্তিতে সেন্টমার্টিন দ্বীপকে উপকূলীয় বেসলাইন ধরে পূর্ণ টেরিটোরিয়াল সমুদ্র এবং ২০০ নটিক্যাল মাইল একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল লাভ করে।
**ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা নিষ্পত্তি (PCA)**
আদালতনেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত **স্থায়ী সালিশি আদালত (PCA - Permanent Court of Arbitration)**।
রায় ঘোষণার তারিখ**৭ জুলাই ২০১৪**।
ফলাফলবিরোধপূর্ণ ২৫,৬০২ বর্গকিলোমিটার সমুদ্রাঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশ লাভ করে **১৯,৪৬৭ বর্গকিলোমিটার**।
**সমুদ্রসীমার বিভিন্ন পরিমাপ**
টেরিটোরিয়াল সমুদ্রসীমা (Territorial Sea)**১২ নটিক্যাল মাইল** (উপকূলীয় বেসলাইন থেকে)।
সংলগ্ন অঞ্চল (Contiguous Zone)**১৮ নটিক্যাল মাইল** (বা ২৪ নটিক্যাল মাইল বেসলাইন থেকে)।
এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (EEZ)**২০০ নটিক্যাল মাইল**।
মহীসোপান (Continental Shelf)তলদেশের প্রাকৃতিক সম্প্রসারণ অনুযায়ী উপকূল থেকে **৩৫০ নটিক্যাল মাইল** পর্যন্ত।
[নোট১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার বা ১.১৫ মাইল]।
সর্বমোট অর্জিত সমুদ্র অঞ্চল**১,১৮,৮১৩ বর্গকিলোমিটারের** অধিক জলসীমা।
**সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড (Swatch of No Ground)**
বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবনের দুবলার চর থেকে প্রায় ৩০-৪০ কিমি দক্ষিণে অবস্থিত এক বিশাল নিমজ্জিত খাদ বা সাবমেরিন ক্যানিয়ন (Submarine Canyon)।
এর গভীরতা প্রায় ৯০০ মিটার থেকে ১,৫০০ মিটার পর্যন্ত। এটি সামুদ্রিক তিমি, ডলফিন, হাঙর ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অন্যতম বিশ্বখ্যাত অভয়ারণ্য। ২০১৪ সালে একে দেশের প্রথম সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা (Marine Protected Area) ঘোষণা করা হয়।
--
প্রায় ২ কোটি বছর আগে টারশিয়ারি যুগে হিমালয় পর্বতমালা সৃষ্টির সময় আসামের লুসাই ও মিয়ানমারের আরাকান পাহাড়ের সমসাময়িক হিসেবে ভূ-আন্দোলনের ফলে এ পাহাড়গুলো সৃষ্টি হয়। এগুলো মূলত বেলেপাথর, কাদা ও শেল পাথর দ্বারা গঠিত।
এটি দুই ভাগে বিভক্ত
**(ক) উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়** ময়মনসিংহ, নেত্রকোণা, সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়। এগুলো স্থানীয়ভাবে 'টিলা' নামে পরিচিত। গড় উচ্চতা ৩০ থেকে ৬০ মিটার। সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মৌলভীবাজারের চিকনাগুল পাহাড় বা কালাপাহাড় (উচ্চতা প্রায় ৩২৭ মিটার)।
**(খ) দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের পাহাড়** চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলা। এ পাহাড়গুলোর গড় উচ্চতা প্রায় ৬১০ মিটার।
**বাংলাদেশের প্রধান পর্বতশৃঙ্গসমূহ**
**তাজিংডং (বিজয়)** বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। সরকারি গেজেট ও জরিপ অনুযায়ী উচ্চতা **১,২৮০ মিটার** (৪,১৯৮ ফুট)।
**কিওক্রাডং** বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত। সরকারি উচ্চতা **১,২৩০ মিটার** (৪,০৩৪ ফুট)।
**সাকা হাফং (মদক তং)** বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত বেসরকারিভাবে দাবি করা সর্বোচ্চ শৃঙ্গ (উচ্চতা ১,০৫২ মিটার বা ৩,৪৫১ ফুট)।
প্রায় ২৫,০০০ বছর পূর্বে প্লাইস্টোসিন যুগে বরফগলা পানির প্রবাহ এবং আন্তঃহিমবাহ যুগে পলল সঞ্চিত হয়ে ভূ-উত্থানের ফলে এই উচ্চভূমি গঠিত হয়। মাটি অত্যন্ত অম্লীয়, কঙ্করময় এবং লালচে-ধূসর বর্ণের।
প্রধান তিনটি অঞ্চল
**(ক) বরেন্দ্রভূমি (Varendra Tract)** রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, বগুড়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলার অংশবিশেষ নিয়ে গঠিত। আয়তন প্রায় **৯,৩২০ বর্গকিলোমিটার**। প্লাবন সমভূমি থেকে এর উচ্চতা প্রায় ৬ থেকে ১২ মিটার।
**(খ) মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় (Madhupur & Bhawal Tract)** টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, জামালপুর, গাজীপুর ও ঢাকা জেলার অংশজুড়ে বিস্তৃত। আয়তন প্রায় **৪,১০৩ বর্গকিলোমিটার**। উচ্চতা প্রায় ৬ থেকে ৩০ মিটার। প্রধান বৃক্ষ শাল/গজারি।
**(গ) লালমাই পাহাড় (Lalmai Hills)** কুমিল্লা শহর থেকে ৮ কিমি পশ্চিমে অবস্থিত। আয়তন প্রায় **৩৪ বর্গকিলোমিটার** এবং গড় উচ্চতা প্রায় ২১ মিটার (সর্বোচ্চ ৪৬ মিটার)। প্রাচীন শালবন বৌদ্ধ বিহার ও ময়নামতি প্রত্নতত্ত্ব এখানে অবস্থিত।
টারশিয়ারি পাহাড় ও প্লাইস্টোসিন সোপান ব্যতীত বাংলাদেশের অবশিষ্ট প্রায় ৮০% ভূখণ্ড গঙ্গা-পদ্মা, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা ও মেঘনা নদী বিধৌত উর্বর পলল দ্বারা গঠিত বিশ্বের বৃহত্তম সক্রিয় বদ্বীপ (Active Delta)।
বৈশিষ্ট্যসমতল ভূমি, প্রতি বছর বর্ষায় নতুন পলি সঞ্চিত হয়ে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধি পায়, কৃষি ও জনবসতির প্রধান প্রাণকেন্দ্র।
--
চেকপয়েন্ট ১ এর ৬
মনে রাখার মতো তথ্য
১বাংলাদেশের ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক ২০°৩৪′ উত্তর থেকে ২৬°৩৮′ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৮°০১′ পূর্ব থেকে ৯২°৪১′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ।
২কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩°৩০′ উত্তর অক্ষাংশ) এবং ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমারেখা উভয়ই বাংলাদেশের প্রায় মাঝামাঝি দিয়ে অতিক্রম করেছে।
৩বাংলাদেশের চারটি প্রান্তীয় বিন্দু: উত্তরে বাংলাবান্ধা (তেঁতুলিয়া), দক্ষিণে ছেঁড়াদ্বীপ (টেকনাফ), পূর্বে আখাইনঠং (থানচি) এবং পশ্চিমে মনাকশা (শিবগঞ্জ)।
৪বাংলাদেশের সরকারি ভৌগোলিক আয়তন ১,৪৭,৫৭০ বর্গকিলোমিটার (বা ৫৬,৯৭৭ বর্গমাইল)।
৫বাংলাদেশের মোট আন্তর্জাতিক সীমানা ৪,৭১১ কিমি; ভারতের সাথে ৪,১৫৬ কিমি, মিয়ানমারের সাথে ২৭১ কিমি এবং উপকূলরেখা ৭১৬ কিমি।
৬মোট সীমান্তবর্তী জেলা ৩২টি (ভারতের সাথে ৩০টি, মিয়ানমারের সাথে ৩টি); একমাত্র রাঙ্গামাটি জেলা উভয় দেশের সাথে সংযুক্ত।
৭কোনো আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেই এমন দুটি প্রশাসনিক বিভাগ হলো ঢাকা ও বরিশাল বিভাগ।
৮২০১৫ সালের ৩১ জুলাই দিবাগত রাত ১২:০১ মিনিটে ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময় কার্যকর হয় এবং বাংলাদেশ নিট ১০,০৪৮.৫৫ একর জমি লাভ করে।
৯তিনবিঘা করিডোর পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের অভ্যন্তরে অবস্থিত এবং ২০১১ সালের ১৯ অক্টোবর থেকে তা ২৪ ঘণ্টার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।
১০২০১২ সালের ১৪ মার্চ ITLOS আদালতের রায়ে মিয়ানমারের সাথে এবং ২০১৪ সালের ৭ জুলাই PCA-র রায়ে ভারতের সাথে সমুদ্রসীমা জয় করে বাংলাদেশ।
১১বাংলাদেশ সমুদ্রের ১২ নটিক্যাল মাইল আঞ্চলিক সমুদ্র, ২০০ নটিক্যাল মাইল বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ) এবং ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত মহীসোপান লাভ করেছে।
১২বঙ্গোপসাগরের দুবলার চরের দক্ষিণে অবস্থিত 'সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড' একটি বিশাল সাবমেরিন ক্যানিয়ন যা ২০১৪ সালে সংরক্ষিত সামুদ্রিক এলাকা ঘোষিত হয়।
১৩বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির ১২% টারশিয়ারি পাহাড়, ৮% প্লাইস্টোসিন সোপান এবং সিংহভাগ ৮০% সাম্প্রতিক কালের প্লাবন সমভূমি।
১৪টারশিয়ারি পাহাড়গুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং বা বিজয় (উচ্চতা ১,২৮০ মিটার) এবং দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কিওক্রাডং (উচ্চতা ১,২৩০ মিটার)।
১৫প্লাইস্টোসিন সোপানগুলোর মধ্যে বরেন্দ্রভূমি (৯,৩২০ বর্গকিমি), মধুপুর ও ভাওয়ালের গড় (৪,১০৩ বর্গকিমি) এবং লালমাই পাহাড় (৩৪ বর্গকিমি) অন্যতম।
১৬ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সেভেন সিস্টার্স এবং ভারত মহাসাগরীয় নৌবাণিজ্যের কেন্দ্রস্থলে অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ অত্যন্ত উচ্চ ভূ-কৌশলগত গুরুত্ব বহন করে।
শব্দার্থ ও টীকা
কর্কটক্রান্তি রেখা (Tropic of Cancer)

উত্তর গোলার্ধে নিরক্ষরেখা থেকে ২৩°৩০′ উত্তর অক্ষাংশে কল্পিত ভৌগোলিক রেখা, যা বাংলাদেশের মধ্যভাগ অতিক্রম করেছে।

প্রমাণ সময় (Standard Time)

কোনো দেশের কেন্দ্রস্থলের দ্রাঘিমারেখার উপর ভিত্তি করে নির্ধারিত সর্বসম্মত জাতীয় সময় (বাংলাদেশের প্রমাণ সময় ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমা অনুযায়ী GMT+6)।

ছিটমহল (Enclave)

এক দেশের মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন কিন্তু অন্য দেশের সীমানা দ্বারা সম্পূর্ণ পরিবেষ্টিত ক্ষুদ্র ভূখণ্ড।

তিনবিঘা করিডোর

ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন ১৭৮×৮৫ মিটার আয়তনের বিশেষ ভূমি যা বাংলাদেশের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা ছিটমহলকে মূল ভূখণ্ডের সাথে যুক্ত করেছে।

টেরিটোরিয়াল সমুদ্র (Territorial Sea)

উপকূলরেখা থেকে সমুদ্রের দিকে ১২ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত জলসীমা, যেখানে সংশ্লিষ্ট দেশের পূর্ণ সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণ বজায় থাকে।

সংলগ্ন অঞ্চল (Contiguous Zone)

টেরিটোরিয়াল সমুদ্রের সংলগ্ন পরবর্তী ১২ নটিক্যাল মাইল (বেসলাইন থেকে ২৪ নটিক্যাল মাইল) এলাকা যেখানে শুল্ক, অভিবাসন ও পরিবেশ আইন প্রয়োগ করা যায়।

একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চল (EEZ)

উপকূল থেকে সমুদ্রের ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চল যেখানে উপকূলীয় দেশের সকল জীবিত ও জড় প্রাকৃতিক সম্পদ আহরণের একক অধিকার থাকে।

মহীসোপান (Continental Shelf)

উপকূলবর্তী সমভূমি সমুদ্রের পানির নিচে মৃদু ঢালু হয়ে তলদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত ভূখণ্ড (বাংলাদেশ ৩৫০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত অধিকার লাভ করেছে)।

নটিক্যাল মাইল (Nautical Mile)

সমুদ্র ও আকাশপথে দূরত্ব পরিমাপের একক; ১ নটিক্যাল মাইল = ১.৮৫২ কিলোমিটার বা ১.১৫০৮ মাইল।

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড

সুন্দরবনের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত প্রায় ৯০০+ মিটার গভীর এক বিশাল সাবমেরিন ক্যানিয়ন ও জীববৈচিত্র্য অভয়ারণ্য।

টারশিয়ারি যুগ (Tertiary Period)

ভূতাত্ত্বিক সময়ের প্রায় ৬ কোটি ৬০ লাখ থেকে ২৬ লাখ বছর পূর্বের যুগ, যখন হিমালয় সৃষ্টির সাথে সাথে বাংলাদেশের পাহাড়সমূহ গঠিত হয়।

প্লাইস্টোসিন কাল (Pleistocene Epoch)

ভূতাত্ত্বিক কালের প্রায় ২৫ লাখ থেকে ১০ হাজার বছর পূর্বের হিমবাহ যুগ; এ সময় বরেন্দ্রভূমি ও মধুপুরের সোপানভূমি গঠিত হয়।

বরেন্দ্রভূমি (Varendra Tract)

প্লাইস্টোসিন যুগে গঠিত উত্তরবঙ্গের ৯,৩২০ বর্গকিমি আয়তনের লালচে কঙ্করময় ও অম্লীয় মৃত্তিকা বিশিষ্ট প্রাচীন সোপান অঞ্চল।

মধুপুর ও ভাওয়ালের গড়

ঢাকা, গাজীপুর ও টাঙ্গাইল অঞ্চলে বিস্তৃত প্লাইস্টোসিন কালের ৪,১০৩ বর্গকিমি আয়তনের প্রাচীন শালবন সমৃদ্ধ লাল মাটির উচ্চভূমি।

বদ্বীপ (Delta)

নদীর মোহনায় পলি সঞ্চিত হয়ে গ্রিক বর্ণ 'ডেল্টা' (Δ) বা বাংলা 'ব' অক্ষরের মতো গঠিত ত্রিভুজাকৃতির উর্বর পললভূমি।

তাজিংডং (বিজয়)

বান্দরবানের রুমা উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ (সরকারি গেজেট অনুযায়ী উচ্চতা ১,২৮০ মিটার)।

চিকেনস নেক (Chicken's Neck)

ভারতের শিলিগুড়ি করিডোর; মাত্র ২১-২২ কিমি চওড়া সংকীর্ণ ভূখণ্ড যা ভারতের মূল ভূখণ্ডকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের সাথে যুক্ত করেছে।

ব্লু-ইকোনমি (Blue Economy)

সমুদ্রের জলজ ও খনিজ সম্পদ, মৎস্য, নৌবাণিজ্য এবং পরিবেশবান্ধব সামুদ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের টেকসই ব্যবস্থাপনা।

আইটলস (ITLOS)

International Tribunal for the Law of the Sea — জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন ট্রাইব্যুনাল।

স্থায়ী সালিশি আদালত (PCA)

Permanent Court of Arbitration — নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগে অবস্থিত আন্তর্জাতিক বিরোধ মীমাংসার শীর্ষ সালিশি প্রতিষ্ঠান।

আখাইনঠং

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে অবস্থিত বাংলাদেশের সর্বপূর্ব প্রান্তের ভৌগোলিক স্থান।

বাংলাবান্ধা

পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সর্বউত্তরের স্থলবন্দর ও সীমান্ত চৌকি।

মনাকশা

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত বাংলাদেশের সর্বপশ্চিম প্রান্তের ইউনিয়ন।

ছেঁড়াদ্বীপ

কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় সেন্টমার্টিন দ্বীপের দক্ষিণে অবস্থিত প্রবাল সমৃদ্ধ বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণের বিন্দু।

র‍্যাডক্লিফ লাইন (Radcliffe Line)

১৯৪৭ সালে ব্রিটিশ ভারতের দেশভাগের সময় স্যার সিরিল র‍্যাডক্লিফ কর্তৃক ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নির্ধারিত সীমান্তরেখা।

বইয়ের অনুশীলনীর উত্তর

অনুশীলনীর প্রশ্নগুলো সবার জন্য খোলা — পূর্ণাঙ্গ উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন নিন

সাবস্ক্রিপশন নিন

ফ্রিতে উত্তর দেখতে চান?

১টি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখলেই এই অধ্যায়ের সমস্ত উত্তর আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ফ্রি আনলক হবে!

প্রশ্ন ১বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান ও সীমানার প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করুন।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

প্রশ্ন ২২০১৫ সালের ঐতিহাসিক ছিটমহল বিনিময়ের পটভূমি ও এর তাৎপর্য ব্যাখ্যা করুন।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

প্রশ্ন ৩আন্তর্জাতিক আদালতের রায়ে অর্জিত বাংলাদেশের সমুদ্রসীমার পরিধি ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করুন।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

প্রশ্ন ৪বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতির শ্রেণিবিভাগ সংক্ষেপে বর্ণনা করুন।

উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন লাগবে।

উদ্দীপক আর প্রশ্ন সবার জন্য খোলা — পূর্ণ উত্তর দেখতে সাবস্ক্রিপশন নিন

সাবস্ক্রিপশন নিন

ফ্রিতে সৃজনশীলের উত্তর পড়তে চান?

১টি সংক্ষিপ্ত ভিডিও বিজ্ঞাপন দেখলেই এই অধ্যায়ের সমস্ত সৃজনশীল সমাধান আগামী ২৪ ঘণ্টার জন্য ফ্রি আনলক হবে!

সৃজনশীল প্রশ্ন ১১০ নম্বর
উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

অধ্যাপক রহমান আন্তর্জাতিক ভূগোলের ক্লাসে মানচিত্র প্রদর্শন করে বললেন, 'একটি রাষ্ট্রের ভূ-রাজনৈতিক প্রভাব কেবল তার ভৌগোলিক আয়তনের ওপর নির্ভর করে না; বরং তার ভৌগোলিক স্থানাঙ্ক, উপকূলবর্তী সমুদ্রের কৌশলগত নিয়ন্ত্রণ এবং প্রতিবেশী অঞ্চলের অর্থনৈতিক ট্রানজিটের ওপর বহুলাংশে নির্ভর করে। যেমন দক্ষিণ এশিয়ায় বঙ্গোপসাগরের শীর্ষে অবস্থিত একটি বদ্বীপ রাষ্ট্র তার ১২ নটিক্যাল মাইল টেরিটোরিয়াল সমুদ্র ও ২০০ নটিক্যাল মাইল এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন অর্জনের পর পুরো ভারত মহাসাগরীয় নৌবাণিজ্যে অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া একসময় স্থলসীমান্তের অভ্যন্তরে থাকা ১৬২টি ছিটমহল দীর্ঘ চার দশক ধরে মানবাধিকারহীন সংকট তৈরি করেছিল, যা শান্তিপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সফল সমাধান সম্ভব হয়েছে।'

ক

বাংলাদেশের প্রমাণ সময় কোন দ্রাঘিমারেখা অনুযায়ী নির্ধারিত হয়?জ্ঞানমূলক — ১

খ

সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করুন।অনুধাবনমূলক — ২

গ

উদ্দীপকে উল্লিখিত সামুদ্রিক অর্থনৈতিক অঞ্চলের আইনি স্বীকৃতি অর্জনে বাংলাদেশের আইনি লড়াই ও অর্জিত জলসীমার পরিধি বিশ্লেষণ করুন।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

উদ্দীপকের আলোকে ছিটমহল সমস্যা নিরসনে ঐতিহাসিক স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন ও বাংলাদেশের ভূ-কৌশলগত সুবিধা কীভাবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে—যুক্তিসহ মূল্যায়ন করুন।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ২১০ নম্বর
উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ভূতত্ত্ব বিভাগের সমীক্ষা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের ভূমিরূপের তিনটি ভিন্ন চিত্র উঠে আসে: উত্তর ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে রয়েছে প্রায় ২ কোটি বছর প্রাচীন ক্ষয়প্রাপ্ত পাহাড় যার গড় উচ্চতা ৩০ থেকে ৬১০ মিটার এবং যা কঠিন বেলেপাথর ও শেলে গঠিত; অন্যদিকে রাজশাহী ও টাঙ্গাইল-গাজীপুর অঞ্চলে দেখা যায় প্লাইস্টোসিন যুগের লালচে ও কঙ্করময় মাটির বিশেষ সোপানভূমি; আর দেশের অবশিষ্ট সিংহভাগ ভূখণ্ড পদ্মা, যমুনা ও মেঘনা বিধৌত উর্বর পলল সমভূমি দ্বারা গঠিত। সমীক্ষক দল উল্লেখ করেন যে, এই ত্রিমুখী ভূমিরূপের কারণেই একদিকে যেমন দেশে কৃষি বিপ্লব সম্ভব হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক স্তরে এটি এক কৌশলগত বদ্বীপে পরিণত হয়েছে।

ক

বাংলাদেশের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ তাজিংডং কোন উপজেলায় অবস্থিত?জ্ঞানমূলক — ১

খ

প্লাইস্টোসিন সোপানের মৃত্তিকার প্রধান বৈশিষ্ট্য কী?অনুধাবনমূলক — ২

গ

উদ্দীপকে উল্লিখিত প্রথম অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন ও এর প্রধান পর্বতশৃঙ্গসমূহের তুলনামূলক বিবরণ দিন।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

উদ্দীপকে বর্ণিত ত্রিবিধ ভূমিরূপ কীভাবে বাংলাদেশের কৃষি, অর্থনীতি ও ভূ-কৌশলগত ভারসাম্যে নিয়ামক ভূমিকা পালন করছে—বিশ্লেষণ করুন।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ৩১০ নম্বর
উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

ভূ-রাজনীতিবিদ ড. জামান এক আন্তর্জাতিক সেমিনারে বলেন, 'ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্য (সেভেন সিস্টার্স) ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে মাত্র ২১ কিলোমিটারের এক অত্যন্ত সরু শিলিগুড়ি করিডোর বা চিকেনস নেক দ্বারা সংযুক্ত। নিরাপত্তা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় এই সরু পথ অবরুদ্ধ হলে ওই অঞ্চল প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরের শীর্ষদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর এবং প্রস্তাবিত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর পুরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে পারে। ফলে বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলোর ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজি এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ উভয় পরিকল্পনাতেই বাংলাদেশ এক অপরিহার্য ভূ-কৌশলগত সংযোগস্থল।'

ক

চিকেনস নেক বা শিলিগুড়ি করিডোরের প্রস্থ আনুমানিক কত কিলোমিটার?জ্ঞানমূলক — ১

খ

তিনবিঘা করিডোরের গুরুত্ব কী?অনুধাবনমূলক — ২

গ

উদ্দীপকের আলোকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সাথে বাংলাদেশের ভৌগোলিক ও যোগাযোগ সম্পর্কের কৌশলগত দিকটি ব্যাখ্যা করুন।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

'মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্র বন্দর ও বঙ্গোপসাগরের কেন্দ্রীয় অবস্থান বাংলাদেশকে আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক সংযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে'—উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করুন।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

সৃজনশীল প্রশ্ন ৪১০ নম্বর
উত্তর প্রিমিয়াম

উদ্দীপক

২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি বিশেষ ভৌগোলিক মানচিত্রে দেখা যায়, একটি দেশের সর্বউত্তরে হিমালয়ের পাদদেশে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর এবং সর্বদক্ষিণে প্রবাল সমৃদ্ধ ছেঁড়াদ্বীপ অবস্থিত। দেশটির পূর্ব-পশ্চিমে কর্কটক্রান্তি রেখা এবং উত্তর-দক্ষিণে ৯০° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পরস্পরকে ছেদ করেছে। ভৌগোলিক অবস্থানের এই অনন্য বৈশিষ্ট্যের কারণে দেশটি প্রতি বছর যেমন বঙ্গোপসাগর থেকে আর্দ্র দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু লাভ করে, তেমনি বৈশ্বিক আন্তর্জাতিক মান সময় নির্ধারণেও এর নির্দিষ্ট অক্ষাংশ-দ্রাঘিমাংশের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।

ক

বাংলাদেশের পশ্চিমতম উপজেলার নাম কী?জ্ঞানমূলক — ১

খ

কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের জলবায়ুর ওপর কী প্রভাব ফেলে?অনুধাবনমূলক — ২

গ

উদ্দীপকের মানচিত্রে প্রদর্শিত দেশের অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশীয় অবস্থান কীভাবে এর সময় ও ভৌগোলিক চরিত্র নির্ধারণ করে—ব্যাখ্যা করুন।প্রয়োগমূলক — ৩

ঘ

বাংলাদেশের চরম ভৌগোলিক বিন্দুসমূহ (উত্তর, দক্ষিণ, পূর্ব ও পশ্চিম) আন্তর্জাতিক সীমান্ত বাণিজ্য ও পর্যটনে কী ধরনের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা তৈরি করেছে? বিশ্লেষণ করুন।উচ্চতর দক্ষতা — ৪

এই অধ্যায় পড়া কি শেষ হয়েছে?

পড়া শেষ হলে চিহ্নিত করুন যাতে আপনার সার্বিক অগ্রগতি ট্র্যাক করা যায়।